ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

নিখোঁজের পর শিশুর লাশ উদ্ধার, ধর্ষণের পর হত্যার সন্দেহ

নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নিখোঁজের পর শিশুর লাশ উদ্ধার, ধর্ষণের পর হত্যার সন্দেহ
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার পর কংস নদ থেকে পাঁচ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে করা হলেও দাফনের আগে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নিহত শিশুটি ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাটি গ্রামের। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাথমিকভাবে তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার আসরের নামাজের পর বিকেল ৫টার দিকে নিজ বাড়ির পাশ থেকে চা-বিস্কুট খেয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে স্থানীয়রা কংস নদের বাঁকে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধার করেন।

স্বজনদের ভাষ্য, মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে শিশুটিকে গোসল করাতে নেওয়া হয়। এ সময় তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানসহ গলা ও বুকে কামড়ের মতো আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তক্ষরণের আলামত দেখা যায়। এতে শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে স্বজনদের মনে সন্দেহ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে দাফনের প্রস্তুতি বন্ধ রেখে বিষয়টি ধোবাউড়া থানা পুলিশকে জানানো হয়।

নিহত শিশুটির বাবা আর্তনাদ করে বলেন, ‘আমার ছোট মেয়ের সঙ্গে কেউ এমন কাজ করতে পারে, তা কখনও ভাবতে পারিনি। আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে শেষ করে দিল।’
খবর পেয়ে রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে পুলিশ মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। গতকাল সোমবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণ করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় গতকাল বিকেলে ভিকটিম শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেছেন।

নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগে মুন্না নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ জুন রাত ১০টার দিকে শৌচাগারে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয় শিশুটি। এ সময় ওত পেতে থাকা মুন্না তার মুখ গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে মুখ, হাত ও পা গামছা দিয়ে বেঁধে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় গত রোববার শিশুটি তার ফুফুকে বিষয়টি খুলে বলে। ওই দিন রাতে মোহনগঞ্জ থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।

মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গতকাল শিশুটিকে নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চার কার্যদিবসে শেষ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করে আজ মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমার আদালত এ আদেশ দেন। শুনানির সময় আসামি মনির হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।

ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলায় চার কার্যদিবসে মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির পরীক্ষাও শেষ করা হয়। মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করার জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর রায় ঘোষণা করবেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। এর আগে ২১ মে বিকেলে বাকলিয়ার নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। 

শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার
রাজধানীর রমনা থানাধীন সিদ্ধেশ্বরীতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ওই কিশোর ও তার মামার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। 
পুলিশ জানায়, রোববার রাতে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ওই কিশোর। ঘটনাটি জানাজানি হলে কিশোরের মামা ভুক্তভোগীর বাবা-মাকে গালাগাল করেন। রমনা থানার ওসি মোহাম্মদ রাহাত খান বলেন, ভুক্তভোগী শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সমকাল প্রতিবেদক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা)

আরও পড়ুন

×