ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ-চীনের চুক্তি নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম যা বলছে

বাংলাদেশ-চীনের চুক্তি নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম যা বলছে
×

বাংলাদেশ চীনের চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইন্ডিয়া টুডে (বাঁয়ে) ও দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ১৪:৪৭ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ | ১৪:৫৯

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারককে (এমওইউ) বেশ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমে। চুক্তিটি মোংলা বন্দর এবং এমওইউটি তিস্তা নদীকেন্দ্রিক।
  
চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই ‘ইন্ডিয়া টুডে’ তাদের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করে, ‘ভারতের হাতছাড়া হয়ে চীনের কাছে গেল গুরুত্বপূর্ণ বন্দর প্রকল্প: দিল্লির কি চিন্তিত হওয়া উচিত?’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে তৈরি হওয়া শূন্যস্থানে চীন নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গোপসাগরে ভারতের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোংলা বন্দরের পাশে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চীনের রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। 

ইন্ডিয়া টুডে উল্লেখ করেছে, ‘এই জমিটি মূলত একটি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকায় মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার তালিকা থেকে এটির নাম বাদ দেয়।’

এই চুক্তিটি ভারতের জন্য দুই ধরনের উদ্বেগ তৈরি করছে বলে লিখেছে গণমাধ্যমটি। প্রথমত, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাত ছাড়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এটি বঙ্গোপসাগর এবং সামগ্রিকভাবে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের বৃহৎ পরিসরে উপস্থিতির পথ সুগম করে দিচ্ছে।

চুক্তিটি বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থানে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় বলেও উল্লেখ করেছে ইন্ডিয়া টুডে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির ফলে এমন একটি অঞ্চলে ভারত ও চীনের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যেটিকে দিল্লি ঐতিহ্যগতভাবে নিজস্ব প্রভাব বলয় এবং নিজ আঙিনা হিসেবে বিবেচনা করে।

চীন তাদের ‘মেরিটাইম সিল্ক রোড’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারত মহাসাগরজুড়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে দাবি ইন্ডিয়া টুডের। পাকিস্তানের গোয়াদর থেকে শুরু করে পূর্ব আফ্রিকার জিবুতি পর্যন্ত বিভিন্ন বন্দরে তারা বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে। সব মিলিয়ে, ভারত মহাসাগরের অন্তত ১৭টি বন্দর প্রকল্পের সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত।

বেইজিংয়ের এমন উদ্যোগের কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে জ্বালানি নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক। মোট জ্বালানি আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশই পরিবহন হয় ভারত মহাসাগর দিয়ে। আর এটাই চীনের কাছে মোংলার মতো বন্দরগুলোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সেখানে তিনি বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আলোচনায় নতুন গতি এসেছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে দুই দেশ একমত। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি ত্বরান্বিত হবে।

তিস্তা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত শেষ করতে এবং পরবর্তী বাস্তবায়ন পর্যায়ে চীন তার সক্ষমতা অনুযায়ী সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সংরক্ষণ, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়েও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

দেশের উত্তরাঞ্চলের এই নদীকেন্দ্রিক সমঝোতা স্মারক নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু লিখেছে, নীলফামারী ও রংপুর অঞ্চলটি ভারতের জলপাইগুড়ির খুব কাছে অবস্থিত। পাশেই আছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা সংকীর্ণ পথ বা ‘চিকেনস নেক’। সংবেদনশীল একটি সীমান্তের কাছাকাছি বিপুল সংখ্যক চীনা প্রকৌশলী ও পেশাজীবীদের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই দিল্লির জন্য তীব্র উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। 

দ্য হিন্দু লিখেছে, সমঝোতা স্মারকটি নবায়ন করেছে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ার চায়না’। তারা নদীভিত্তিক প্রকল্পগুলোতে অভিজ্ঞ হলেও চীনের কৌশলগত খাতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আগ মুহূর্তে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর বয়ান নিয়ে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছিল কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র হিসেবে পরিচিত গ্লোবাল টাইমস। তাতে লেখা হয়, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। এটি শুরু থেকেই চীনের একটি সুসংগত ও ধারাবাহিক নীতিগত অবস্থান। 

আরও পড়ুন

×