সংসদে অর্থমন্ত্রী
কাঁচাবাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকান ভ্যাটের আওতার বাইরে
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি- সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ১৮:৩৩
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে এবং হয়রানি বন্ধে সামর্থ্য অনুযায়ী ফ্ল্যাট রেটে ভ্যাট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে কাঁচাবাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকান এই ভ্যাটের আওতার বাইরে থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় প্রথমবারের মতো ৪ লাখ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেই রাজস্ব আদায়ে এই গতি এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও তা অর্জন করা সম্ভব। সরকার করের হার বৃদ্ধি না করে করভিত্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য পূরণ করতে চায়। রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আরও করদাতাবান্ধব করা এবং রাজস্ব আহরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, এ লক্ষ্যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ, কর ব্যবস্থার অটোমেশন, কর ফাঁকি রোধ এবং বিনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে এবং হয়রানি বন্ধে সামর্থ্য অনুযায়ী ফ্ল্যাট রেটে ভ্যাট প্রদানের ব্যবস্থা করা হলেও কাঁচাবাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকানকে এই ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখা হবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, কৃষি ও শিল্পসহ সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬০টি পণ্যের উৎসে কর হ্রাস করা হয়েছে।
এ ছাড়া সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটিসমূহ দূর করা, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং অসাধুচক্রের কৃত্রিম সংকট ও কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাক্কলিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি অর্থনীতির সামগ্রিক কার্যক্রম, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং আস্থার প্রতিফলন। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সেবাখাতসহ সব সম্ভাবনাময় খাতের সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিকে মূলধারায় এনে দেশব্যাপী উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।
বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা হবে। সরকার ক্রমান্বয়ে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সে লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ব্যয়ের ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ উন্নয়ন ব্যয় থেকে তা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরগুলোতেও উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ আরও বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা হবে বলে জানান তিনি।
- বিষয় :
- কাঁচাবাজার
- ভ্যাট
