ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

‘যারা ধাঁধায় পড়েছে, তারাই জানে কার্লো কী’

‘যারা ধাঁধায় পড়েছে, তারাই জানে কার্লো কী’
×

ব্রাজিলের কোচ ডন কার্লো আনচেলত্তি। ছবি: ফাইল

কলাম: রদ্রিগো ডি গোয়েস   

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ১৯:৫৫ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ | ২০:২৪

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মোটামুটি ৬০ হাজার দর্শক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল। প্রতিপক্ষ ম্যানসিটি ১-০ গোলে এগিয়ে। আমি বেঞ্চে বসা। কার্লো আনচেলত্তি ডেকে বললেন- আগ্রাসীভাবে খেলো, ম্যাচটা বের করে আনো। আমি ৬৮ মিনিটে নেমে ৯০ মিনিটে দলকে সমতা এনে দিলাম। তখনো আমরা দুই লেগ মিলিয়ে এক গোলে পিছিয়ে। পরের মিনিটে আমি আরো একটা গোল করলাম। বাকিটা সবার জানা। ফাইনালে লিভারপুলকে হারিয়ে আমরা চ্যাম্পিয়ন। এতো কথা বলছি- কারণ কার্লো আনচেলত্তি কী বিষয়টা বোঝাবার জন্য। একটা দলের জন্য, খেলোয়াড়ের জন্য কোচের ভূমিকা বোঝাবার জন্য। যেটা অদেখাই থেকে যায়। 

কার্লো আনচেলত্তির অধীনে খেলার বেশ অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। যারা খেলোয়াড় তারা সহজে বুঝবেন- তিনি কী। কারণ তাদের কাজ ক্যামেরার পেছনে হয়। যেটা সংবাদ মাধ্যম কিংবা ড্রেসিংরুমের বাইরে যারা থাকেন তাদের জন্য সহজে বোঝার কথা না। যারা কার্লোর ধাঁধাঁয় পড়েছে, তার কৌশল ধরতে ব্যর্থ হয়ে হেরেছে, তাদের জন্যও বিষয়টি বোঝা বেশ সহজ। কারণ তারা মনে করেছেন, কার্লো এক পথে হাঁটবেন। কিন্তু তিনি পুরো উল্টোটা করেছেন। 

কার্লোকে বুঝতে ভুল করবেন না, তিনি যথেষ্ঠ বিচার বিবেচনা করে খেলোয়াড় বাছাই করেন। তিনি হৃদয় ও মন দিয়ে গভীর কৌশলগত জ্ঞান নিয়ে অসাধারণ একটা দল পরিচালনার দায়িত্বভার নিয়েছেন। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে আমি আমার ব্রাজিলিয়ান সতীর্থদের ওপর আস্থা রাখছি, তারা এরই মধ্যে কার্লোর কৌশলের সঙ্গে টুকটাক কাজ করেছেন, তার কৌশলের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, কার্লোর প্রতি তাদের সমর্থন বাড়তেই থাকবে।   

কার্লো আনচেলত্তি আমাদের জন্য পিতারসুলভ। কোচ ও ব্যক্তি হিসেবে আমি তার অগাধ প্রশংসা করি। তিনি সর্বদা আমাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মাঠ ও মাঠের বাইরের পরিস্থিতি নিয়ে পরামর্শ দেন। আমি কার্লোর ওপর করা বেশ কিছু ডকুমেন্টারি দেখেছি, যা অসাধারণ। এখন তো সোস্যাল মিডিয়ার যুগ। অনেক সময় ইউটিউব বা সিনেমার নির্মাতারা বিশেষ কেউ অবসর নেওয়ার পর কৌশলগত নানা দিক নিয়ে শ্যুটিং করেন। অনেক কিছু জানা যায়। তারপরও আমি বলবো, ড্রেসিংরুমের অনেক  বিষয় থাকে, যা অদৃশ্যই থেকে যায়। 

একজন ভালো মেন্টারের অনেক গুনাবলি ওই গোপন কক্ষেই আটকা থেকে যায়। তিনি কীভাবে আপনার পারিবারিক জীবন নিয়ে কথা বলছেন, বিষয়টি কীভাবে সামলাচ্ছেন। কীভাবে একজনের অসন্তোসের বিষয়টি সামাল দিচ্ছেন, সঠিক পথটা দেখিয়ে দিচ্ছেন; এসবের ওপরই ভালো কোচের প্রমাণ লুকিয়ে থাকে। আমি এখনো আমার সেই প্রথম কোচের কথা স্মরণ করি। যিনি আমাকে রাস্তায় খেলতে দেখেছিলেন এবং ছয় বছরের আমার সামর্থ্য চিনেছিলেন। তখনই আমি প্রথবার বুঝতে পারি- আমার বাবা আমার মেধা নিয়ে ঠিক ধারণাই করেছিলেন। 

দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত রদ্রিগোর কলামের আংশিক অনুবাদ

আরও পড়ুন

×