সংসদে অর্থমন্ত্রী
ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের বিতর্কিত ধারা বিলোপ হবে
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি- সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ১৮:৪৯ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ | ২০:০০
যেসব ব্যাংক ঝুঁকিতে রয়েছে, সেগুলোতে পুরনো মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ হচ্ছে। ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের আলোচিত ১৮(ক) ধারা বিলোপ করবে সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে সরকার এ ধারাটি বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। সোমবার বাজেট বক্তৃতায় এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এর অধীনে অর্থনৈতিক সংকটে পড়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে।
বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম এই পাঁচ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক ছিলেন। একীভূত হওয়া এই ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে বড় অংশই এস আলম সংশ্লিষ্ট। ঋণগুলো খেলাপি হয়ে পড়েছে। এর পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, এস আলম এবং তাঁর স্বার্থ সংশ্লিষ্টরা ঋণের নামে টাকা নিয়ে পাচার করেছেন। ফলে গ্রাহকরা প্রায় আড়াই বছর ধরে আমানত ফিরে পাচ্ছেন না। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা সংকটে পড়া ৫টি ব্যাংকের আমানতকারীদের জমানো টাকা থেকে শেয়ারে রূপান্তর করা হয়েছে।
সরকারি ও বিরোধীদলের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা যে ৯৯টি অধ্যাদেশ হুবহু আইনে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এর একটি ছিল ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ। কিন্তু শেষ সময়ে ১৮(ক) ধারা যোগ করে বিএনপি সরকার। বিরোধী দল অভিযোগ করে, সরকার সমঝোতা ভঙ্গ করেছে। এই ধারার মাধ্যমে পুরনো মালিকদের ফেরার পথ তৈরি হচ্ছে। এস আলম আবারও ফিরবে।
১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, আগের মালিকরা মালিকানায় ফিরতে পারবেন। তবে এ জন্য সরকার যে পরিমাণ টাকা ব্যাংকগুলোকে দিয়েছে এর সাড়ে ৭ শতাংশ দিতে হবে। বাকি সাড়ে ৯২ শতাংশ টাকা পরবর্তী দুই বছরে ১০ শতাংশ সুদে পরিশোধ করতে হবে। বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা করা হয়, এতে সরকারের দেওয়া টাকাও লুটের আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যেই ধারাটি বিলোপের সিদ্ধান্ত জানালেন অর্থমন্ত্রী।
