জুলাই শহীদদের স্মৃতি নতুন সংগ্রামের প্রেরণা জোগাবে
ছাত্রদলের কর্মসূচিতে রুহুল কবির রিজভী
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি । চীনের প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে কী করে গুলি খায়, সেই দৃশ্য দেখেছি । জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতি আমাদের আবার কোনো নতুন সংগ্রামে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে ।’
গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে ১ জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ছাত্রদলের ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রিজভী।
শহীদ মিনারে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ধাপে ধাপে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলনের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই-আগস্টে। এই স্মৃতি তর্পণের অনুষ্ঠান আমরা মোমবাতির আলোয় করছি । এই আলো শুধু সাময়িক অন্ধকার দূর করবে না, এটি ভুবনভরা আলো। জুলাইয়ের স্মৃতি আমাদের আলোকিত করবে, প্রজ্বলিত করবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন সংগ্রামে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেবে।’
ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করেন। জাতীয়তাবাদ মানে দেশ, দেশের মানুষ এবং গণতন্ত্রের জন্য অবিরাম সংগ্রাম। আপনাদের নেতা তারেক রহমানের চিন্তা-চেতনায়ও সেই জাতীয়তাবাদ প্রতিফলিত হয়েছে। তাই দেশের স্বার্থে আপনাদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা এবং ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন। তাদের স্মরণেই আমরা প্রতিবছর আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল কর্মসূচি পালন করছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়েছেন, আমরা তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাদের আত্মত্যাগ কখনও ভুলে যাওয়া হবে না।’
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছে এবং বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে ছাত্রদল । দীর্ঘ ১৭ বছর নিপীড়ন সহ্য করার পরও আমরা দেশের প্রশ্নে কখনও আপস করিনি।’
কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ অন্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- জুলাই গণহত্যা