আগের সরকারের প্রকল্পে জনস্বার্থের বদলে ছিল গোষ্ঠীগত স্বার্থ: বিদ্যুৎমন্ত্রী
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৩৩
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া অধিকাংশ প্রকল্পেই জনস্বার্থের চেয়ে গোষ্ঠীগত স্বার্থ বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, ওই সময়ের ভুল নীতি, আর্থিক দায় এবং চড়া মূল্যের বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির বড় এক বোঝা বর্তমান সরকারকে বইতে হচ্ছে। এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিকেই এখন সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।
আজ সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ আসছে বেসরকারি খাত থেকে। আগের সরকারের করা চুক্তির বেড়াজালে পড়ে সরকারকে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দায়ও পরিশোধ করতে হচ্ছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এই পাওনা মেটাতে দেরি হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আর এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। তবে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে বা উৎপাদন করে সেই অতিরিক্ত খরচের বোঝা ভোক্তার ওপর চাপানো হবে না। রুফটপ সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হবে এবং কৃষিজমি রক্ষা করে কেবল পতিত বা অনাবাদি জমিতেই প্রকল্প বাস্তবায়নের জোর দেওয়া হবে।
গ্রামীণ এলাকার লোডশেডিং প্রসঙ্গে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার মূল কারণ বিদ্যুতের ঘাটতি নয়; বরং সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার কারিগরি সীমাবদ্ধতা। শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ করার সময় অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত কিছু লাইনে অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ধাপে ধাপে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করা হবে।
সংলাপে ‘জাতীয় জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম। তিনি বলেন, কৌশলপত্রে উৎপাদন ও বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ভোক্তার স্বার্থ আরও স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি সাশ্রয়ী মূল্য কাঠামো, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা, সুশাসন এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে শতভাগ বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া। সংলাপে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির।