ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো খায়রুল হক-মেননকে   

পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো খায়রুল হক-মেননকে   
×

এ বি এম খায়রুল হক ও রাশেদ খান মেনন

আদালত প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৩৯

উচ্চ আদালত থেকে আট মামলায় জামিনপ্রাপ্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে ফের নতুন এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান বুধবার তাকে বনানী থানার হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এদিন খায়রুল হককে আদালতে হাজির করা হয়নি। ভার্চুয়ালি উপস্থিত দেখিয়ে শুনানি হয়।

খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন বলেন, 'এক মামলায় জামিন পেলে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। এই নিয়ে নবম মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল। কবে মুক্তি মিলবে জানি না।'

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই খায়রুল হককে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। 

মামলার অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট দুপুরে মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ যাওয়ার পথে হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর বনানী থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এ মামলা করেন উজ্জ্বল মিয়া।

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ অভিযোগে করা এক মামলায় সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান গত ১ জুলাই রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য এদিন ধার্য করেন। এদিন শুনানিতে রাশেদ খান মেননকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। 

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২২ অগাস্ট বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ‘অনিয়ম ও প্রতারণার’ মাধ্যমে পূর্বপরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর এই মামলাটি করে দুদক।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, বিধি অনুযায়ী বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বা তার প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক রাখা হয়নি। এনটিআরসিএ সনদ ছাড়াই প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরধারী প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়।

আরও পড়ুন

×