দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: মৌসুমী মৌ
সাক্ষাৎকার
মৌসুমী মৌ। ছবি:অভিনেত্রীর সৌজন্যে
এমদাদুল হক মিল্টন
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১৯:২৪ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১৯:২৬
মৌসুমী মৌ। উপস্থাপক, মডেল ও অভিনেত্রী। বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বেশকিছু অনুষ্ঠান উপস্থাপনা নিয়ে কাটছে তাঁর ব্যস্ত সময়। এই লাইভ অনুষ্ঠান ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁর সঙ্গে-
বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে দেখা যায়। বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর পর সেই ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণে। কেমন উপভোগ করছেন?
‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’– বিশ্বকাপ মানেই অন্যরকম এক উন্মাদনা। দর্শকদের মতো আমিও সেই আবেগের ভেতরেই আছি, তবে দায়িত্বের জায়গা থেকে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে। তবে এই ব্যস্ততাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। কোটি মানুষের আবেগের একটি উৎসবের অংশ হতে পারা সত্যিই বিশেষ অনুভূতির।
উপস্থাপক হিসেবে একেক অনুষ্ঠানে একেক বিষয় নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে অনুষ্ঠান তথ্যবহুল করতে কীভাবে প্রস্তুতি নেন?
আমি মনে করি, একজন উপস্থাপকের সবচেয়ে বড় অলংকার হলো তাঁর প্রস্তুতি। আমাকে যারা কাছ থেকে চেনেন, তারা অনেকেই জানেন আমি এখনও নিয়মিত ডায়েরিতে আমার অতিথির ইন্টারভিউর প্রশ্ন নোট করি। ইন্টারভিউ শেষে নতুন ইনফরমেশনগুলো আবার নোট করি। এ রকম ডায়েরির সংখ্যা আমার ৩০টির ওপরে। আর খেলার শো করার জন্য অবশ্যই খেলা দেখতে হয়। মিস করলে হাইলাইটস দেখি, নিউজগুলো মাস্ট পড়ি। কাছের মানুষদের কাছ থেকে তথ্য নিই। ক্যামেরার সামনে যাওয়ার আগে প্রতিটি ম্যাচ, দল, খেলোয়াড়, পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক তথ্য নিয়ে যতটা সম্ভব পড়াশোনা করি। চেষ্টা করি, দর্শক যেন শুধু আলোচনা না, নতুন কিছু তথ্যও পান। আমি সবসময় চাই, অনুষ্ঠানটি যেন একই সঙ্গে উপভোগ্য এবং তথ্যসমৃদ্ধ হয়।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে কোন চ্যানেলে কোন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন?
এবারের বিশ্বকাপ উপলক্ষে টি স্পোর্টসে ওয়ার্ল্ড কাপ সিনড্রোম, ডিবিসিতে ওয়ার্ল্ড কাপ বাবলস এবং বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে ম্যাচ অ্যানাটমি এই তিনটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছি। গত বিশ্বকাপেও এই তিনটি শো উপস্থাপনার পাশাপাশি বিটিভিতে আরেকটি শো ওয়ার্ল্ড কাপ মোমেন্টস করেছিলাম। এবারের বিশ্বকাপ আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানে শোয়ের অফার থাকলেও সময়ের জন্য সেটা করা সম্ভব হয়নি।
ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময়ও দর্শকের প্রশংসা পেয়েছেন। এবার ফুটবল বিশ্বকাপেও আলোচনায় আছেন। খেলাধুলার প্রতি কী আলাদা দুর্বলতা আছে?
অবশ্যই। তবে অনেকের মতো আমি এমনটা বলব না, আমি ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট, ফুটবল বুঝি। এগুলো মিথ্যে কথা। আমি স্পোর্টস শো করতে গিয়ে স্পোর্টসের প্রেমে পড়েছি। আমার জানার পরিধি কম ছিল। কিন্তু আমার চেষ্টা তার থেকে অনেক বেশি ছিল। আমি ফোন করে করে যারা স্পোর্টস বিশেষজ্ঞ ভালো জানেন কিংবা খেলোয়াড়, তাদের কাছ থেকে জেনেছি, শিখেছি এখনও শিখছি। অনেক জানা বাকি। একজন উপস্থাপক হিসেবে এই জানার আগ্রহ আর ভালো লাগাটাই আমার কাজকে আরও সহজ করে দেয়। কারণ যেটা ভালোবাসি, সেটা নিয়ে কথা বলতেও স্বাচ্ছন্দ্য লাগে। দর্শকদের সঙ্গে খেলার আবেগ ভাগ করে নেওয়ার অনুভূতিটা সত্যিই দারুণ
একেক দিন একেক দলের জার্সি পরে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। বিষয়টি কেমন লাগছে?
খুবই উপভোগ করছি। বিশ্বকাপ মূলত উৎসবের নাম, আর জার্সি সেই উৎসবেরই একটি অংশ। এটি মূলত বিশ্বকাপের উৎসবকে আরও রঙিন করে তোলে। বিভিন্ন দলের জার্সি পরলে সেই দলের সমর্থকরাও আনন্দ পান। একজন উপস্থাপক হিসেবে সব দল ও সব সমর্থকের আবেগকে সম্মান জানাতেই এই বৈচিত্র্য রাখার চেষ্টা করি।
বিশ্বকাপে আপনি কোন দলকে সমর্থন করছেন?
আমার দল বিদায় নিয়েছে। আমি ব্রাজিলের ডাইহার্ট সাপোর্টার। নেইমারের বিদায় আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে, আমি অশ্রুসিক্ত হয়েছি। তবে আমি ভালো ফুটবলের ভক্ত। যেসব টিম ভালো খেলে তাদের খেলা আমি উপভোগ করি। আমি মনে করি, যারা ভুল কম করবে মাঠে নিজেদের প্রমাণ করবে, তারাই বিশ্বকাপের দাবিদার।
ক্যামেরার সামনে আমি একজন উপস্থাপক। তাই ব্যক্তিগত আবেগের চেয়ে নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্বকেই বেশি গুরুত্ব দিই।
একজন উপস্থাপক হিসেবে বিশ্বকাপ আপনাকে কী দিয়েছে?
বিশ্বকাপ আমাকে অনেক বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং উৎসাহ পেয়েছি। একই সঙ্গে প্রতিদিন নিজেকে আরও প্রস্তুত এবং দক্ষ করে তোলার সুযোগও পাচ্ছি। এই অভিজ্ঞতা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
বিশ্বকাপ উপস্থাপনার সবচেয়ে কঠিন দিক কী?
লাইভ অনুষ্ঠান মানেই ভুলের সুযোগ খুব কম। মুহূর্তে মুহূর্তে তথ্য বদলায়, ম্যাচের গতি বদলায়, আলোচনার দিকও বদলে যায়। তাই সবসময় আপডেট থাকা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং একই সঙ্গে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে আসা যাক। মাঝেমধ্যে অভিনয়ে দেখা গেছে আপনাকে। কিন্তু নিয়মিত হয়নি এর কারণ কী?
শুধু নিয়মিত পর্দায় থাকার জন্য অভিনয় করতে চাই না। এমন গল্প, চরিত্র এবং নির্মাতার সঙ্গে কাজ করতে চাই, যেটা আমাকে শিল্পী হিসেবে সমৃদ্ধ করবে। ভালো সুযোগ এলে অবশ্যই অভিনয়ে আরও নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছা আছে।
এই সময়ের ব্যস্ততা কী নিয়ে?
গত ১ জুলাই ইস্পাহানি মির্জাপুর চায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে আমার ২ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ২০২৪ সালে ইস্পাহানির সঙ্গে আমার প্রথম চুক্তি হয়। সেটা হিসাব ইস্পাহানির সঙ্গে আমার পথচলা ৪ বছরের। বছরজুড়ে ইস্পাহানির বিভিন্ন কাজ থাকবে। বাংলাবিদের এবারের আসর আমি উপস্থাপনা করব।
মুকাভিনয় নিয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে?
মূকাভিনয় আমার শিল্পীজীবনের খুব আবেগের একটি জায়গা। আমার আন্তর্জাতিক অর্জনগুলোও মূকাভিনয়ের জন্যই। ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত সময় দিতে পারি না। তবে এই মাধ্যম নিয়ে নতুন কিছু করার ইচ্ছা সবসময়ই আছে। সময় ও সুযোগ মিললে অবশ্যই আবার মঞ্চে ফিরতে চাই। আমার মূকাভিনয়ের গুরু মীর লোকমান এখন দেশে। যদি সবকিছু ঠিক থাকে, তাঁর সঙ্গে টানা ১ ঘণ্টার ডুয়েট শো করার পরিকল্পনা করছিলাম বিশ্বকাপ শেষে।