রেফারিং নিয়ে বিভক্ত বিশ্ব, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
মিসরের কোচের সঙ্গে রেফারির বাকবিতণ্ডা। ছবি: বিবিসি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ২০:০২ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ২০:১১
মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত এক কামব্যাকে ৩-২ গোলে জিতেছে। দুই অর্ধের শুরুতে দুই গোল করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা ২-০ গোলের লিড নিয়েছিল। আর্জেন্টিনা ৭৯ মিনিটে ম্যাচে ফিরে ৯৩ মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে জয় তুলে নিয়েছে।
কিন্তু মেসিদের এই জয়ে বিতর্কিত রেফারিংয়ের দাগ লেগেছে। দায়িত্বে থাকা ফ্রেঞ্চ রেফারি বিল্ড আপে ফাউল ধরে মিসরের ৬০ মিনিটে করা গোল বাতিল করেছে। অথচ কাছাকাছি রকমের ট্যাকল করে আর্জেন্টিনা শেষ সময়ে তৃতীয় গোলটি করলেও সালাহদের অনুরোধ, অনুনয় উপেক্ষা করেন রেফারি; ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সাহায্য পর্যন্ত নেননি।
ম্যাচে মিসরের ১০বারের জায়গায় আর্জেন্টিনা ১২টি ফাউল করেছে। কিন্তু রেফারি ফাউল উপেক্ষা করে গেছেন বেশ ক’বার। ফারাওদের ৪টি হলুদ কার্ড দিলেও প্রতিবারই পার পেয়ে গেছেন আর্জেন্টাইনরা। এক পক্ষকে গোল দেওয়া, অপর পক্ষকে বঞ্চিত করা; রেফারির দ্বিচারি এই সিদ্ধান্তে পুরো ফুটবল বিশ্ব বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার ও ফুটবল বিশ্লেষক রিও ফার্দিন্যান্ড যেমন বলেছেন, ‘আমি বহু বছর ধরে ফুটবল দেখছি। খেলোয়াড় ও বিশ্লেষক হিসেবে। ভক্তদের যা সবচেয়ে বেশি হতাশ করছে,তা হলো রেফারিং নিয়ে অধারাবাহিকতা। আর্জেন্টাইনরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে, রেফারিরা বাঁশি দিতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ছে। কিন্তু মিসরের বেলায় খেলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আসছে।’
প্রিমিয়ার লিগের সাবেক রেফারি মার্ক হালসে বলেছেন, ‘ভিএআরের নিয়ম এটাই; গোল চেক করতে গেলে বিল্ডআপ থেকে দেখতে হবে। জিকোর গোলের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। ফাউল ধরা হয়েছে। কিন্তু ওটা যদি ফাউল ধরা হয়, সালাহর ক্ষেত্রে যা হয়েছে সেটাও ফাউল। ঘটনা তো একই। ম্যাচে এখানেই ধারাবাহিতকতা ভঙ্গ হয়েছে।’
২০২২ বিশ্বকাপে ভিএআর রেফারির দায়িত্বে থাকা মেক্সিকান রেফারি ফার্নান্দো গুরুইরো এক্সে বলেন, ‘মিসরের গোলটা ভিএআর প্রোটোকল মেনে বাতিল হয়নি। ট্যাকল করে আর্জেন্টিনা ফুটবলারের (মার্টিনেজ) থেকে বল দখল করার পরে সামনে আর্জেন্টিনার একাধিক ডিফেন্ডার ছিলেন, তারা ঠিকঠাক পজিশনে ছিলেন, সামনে অনেক জায়গা ছিল, অন্তত তিনটা সুযোগ এসেছে মিসরের থেকে বলের পজিশন কেড়ে নেওয়ার; আর্জেন্টিনা সব কটিতে ব্যর্থ হয়ে গোল খেয়েছে; এরপরও ভিএআর প্রোটোকলে এটি বাতিল হতে পারে না। এটা ভিএআর ও রেফারির ভুল।’
কোচ হোসে মরিনহো রীতিমতো ফিফা ও রেফারিকে ‘শয়তান’ আখ্যা দিয়েছেন, ‘মিসরের গর্ব করা উচিত। তারা পায়ে পায়ে লড়াই করেছে। ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তিকে প্রতিটি মুহূর্তে ভুগিয়েছে। মিসরের দিকে তাকালে আমি কোন ব্যর্থতা খুঁজে পাই না। তারা যোদ্ধা। কিন্তু যোদ্ধাদেরও হারতে হয়, কারণে পেছন থেকে অনেক সময় চিত্রনাট্যটা শয়তানরা লিখে রাখে।’
মেসিদের পক্ষে কথা বলার লোকও আছেন। ইএসপিএনের বিশ্লেষণে ও সাবেক ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস যেমন বলেছেন, মিসরের গোল বাতিল করা নিয়মসম্মত ছিল। কারণ বিল্ড আপে মিসর ফাউল করেছে। ভিএআরের হস্তক্ষেপ গোল বাতিল সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। আবার মেসিদের শেষ গোলের পক্ষেও তিনি। তার মতে, সালাহ বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন। ফাউল হওয়ার মতো ট্যাকলও তাকে করা হয়নি।
- বিষয় :
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬