ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব হাসপাতালগুলোকে দেওয়ার আহ্বান

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব হাসপাতালগুলোকে দেওয়ার আহ্বান
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১৯:২৪

শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উত্তরাধিকার, ভোটাধিকারসহ মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ সংশোধন করে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আইনি দায়িত্ব দেওয়া হলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের সরকারি লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

বুধবার রাজধানীর বিএমএ ভবনে ‘বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক এক সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) কর্মশালার আয়োজন করে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন প্রজ্ঞার কোঅর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।

তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের হার ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় কম। অথচ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এ দুই ক্ষেত্রেই শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বক্তারা বলেন, নিবন্ধনের নির্ভরযোগ্য তথ্য শুধু নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতেই নয়, রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, সুশাসন ও বাজেট প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১৬ দশমিক ৯ অনুযায়ী সবার জন্য বৈধ পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সহায়ক।

আলোচনায় বলা হয়, বর্তমান আইনে জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য নিবন্ধনের দায়িত্ব মূলত পরিবারের ওপর ন্যস্ত। স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো আইনি দায়িত্ব নেই। তবে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলে এসব প্রতিষ্ঠানে জন্ম নেওয়া দেশের প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুকে সহজেই নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক দেশ এ পদ্ধতি অনুসরণ করেই প্রায় শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করেছে।

জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জনে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে আইনগতভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আইন শক্তিশালী করার পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য জনবল সংকট, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করা জরুরি।

ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়গুলো নিয়মিত গণমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। এতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিবাচক চাপ সৃষ্টি হবে। কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।

আরও পড়ুন

×