জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের চূড়ান্ত পরিণতি: জাহেদ উর রহমান
ছবি: সমকাল
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৪৭
পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, দমন-পীড়ন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিক চূড়ান্ত পরিণতি। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে এখন নানা মহলে বিতর্ক ও বিভাজন দেখা যাচ্ছে, এটি আগেই অনুমেয় ছিল।
আজ বুধবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজিত ‘মননে জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের বিতর্ক, বিভাজন বা হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক এবং এগুলো আগেই অনুমান করা হয়েছিল। এসব নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রেখে বাস্তবতা বিবেচনায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে একসাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্ত-পরবর্তী পরিস্থিতির তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর গৃহযুদ্ধ শুরু হলেও বাংলাদেশে তা ঘটেনি। শেখ হাসিনা সরকারের পতনও আকস্মিকভাবে ঘটেনি, বরং দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দল, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজন, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষের ধারাবাহিক প্রতিরোধের ফলেই তা সম্ভব হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, বছরের পর বছর মামলা, কারাবাস, গুম, নির্যাতন, সম্পত্তি দখল ও জীবিকা হারানোর মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েও অসংখ্য মানুষ আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। এসব ত্যাগ ও প্রতিরোধই স্বৈরশাসনকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে তুলেছিল। একই সঙ্গে হাজারো মানুষের এই আত্মত্যাগই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। পরবর্তীকালে বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তা সামনে এলেও গণঅভ্যুত্থানের অভিন্ন দাবি ছিল স্বৈরশাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে আর কোনো স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শুধু রাজনীতিবিদ নন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে গুম করে পুরো বাংলাদেশকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। তবে জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই গুমের রাজনীতির অবসান হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, শেখ হাসিনা শুধু রাজনীতিবিদদেরকেই গুম করেননি, পুরো বাংলাদেশটাকে গুম করে রেখেছিলেন। পেশাজীবী, সাংবাদিক কেউ বাদ যায়নি। এভাবে প্রত্যেক শ্রেণির মানুষকে গুম করে রাখা হয়েছিল শুধু দেশকে জিম্মি করে রাখার জন্য। এসব কিছুর শেষ গল্পের সমাপ্তিই হচ্ছে জুলাই আন্দোলন।
ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহ নিসতার জাহান কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- জাহেদ উর রহমান
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান