ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

দুর্যোগ মোকাবিলায় ১০ পদক্ষেপ

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
×

তারেক রহমান

 বাসস

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সারাদেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার প্রায় সারাদিন বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ শনিবার তিনি ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যাবেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তারেক রহমান বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না               পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ
সমকাল প্রতিবেদক জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনার তথ্য জানান তাঁর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভারী বর্ষণে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অজস্র পরিবার। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আর্তমানবতার সেবায় সার্বক্ষণিক জনগণের পাশে আছে সরকার।

চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় ১০ পদক্ষেপ
চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল তাঁর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মুখপাত্র বলেন, সংকটের এই সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি প্রধান উদ্যোগ হলো– প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিকভাবে দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং মনিটরিং করাচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে এক হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান– এই পাঁচটি জেলার জন্য দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং তিন হাজার ৪৫০ টন চাল দুর্গতদের কাছে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম গতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন এবং সশরীরে দুর্গত এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলো মাঠে নেমেছে। একই সঙ্গে প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড মাঠ পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে কাজ করছে। ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এই দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করছেন। টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে সেটি পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার।
দুর্যোগ খুব দ্রুত কাটিয়ে ওঠার আশাবাদ ব্যক্ত করে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই সংকটে গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছেন এবং জনগণের সরকার সব সময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×