যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ
দুপক্ষের হামলা বন্ধ, চলছে কূটনৈতিক তৎপরতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জাতীয় পতাকা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৬ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে দুই দিনের প্রাণঘাতী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুপক্ষই আঘাত হানা থেকে বিরত রয়েছে। গোটা অঞ্চলে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্রগুলো চেষ্টা করছে কূটনৈতিকভাবে এ সংঘাতের সমাধান করতে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করতে ও কারিগরি বৈঠক চালিয়ে যেতে এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ওয়াশিংটন। মূলত হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করেই এ দফা সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তাদের নতুন করে সংঘাতের জেরে আবারও কমে গেছে হরমুজ দিয়ে নৌযান চলাচল। ফলে আবারও বৈশ্বিক তেল ও জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে স্থায়ীভাবে সংঘাত নিরসনে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছিল। সে সমঝোতার মধ্যে একটি দফায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যান চলাচলের বিষয়টিও ছিল। তবে স্পষ্ট করা হয়নি এর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি।
জুনের মাঝামাঝি সময়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর দিয়ে মোটাদাগে শান্তই ছিল পরিস্থিতি। তবে গত জুনের শেষভাগে, ২৬ তারিখে এক নৌযানে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। সেটির জবাবে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে আবার তা নিরসনও হয়। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয় গত বুধবার। সে সংঘাত দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত থাকে গত বৃহস্পতিবারও। ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে এ সময়ে হামলা হয়। গতবারের মতো এবারও সংঘাতের সূত্রপাত হরমুজকে ঘিরেই।
এ প্রসঙ্গে আরব পার্সপেক্টিভ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইডন আলকিনাই বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে, হরমুজ প্রণালি ও একে ঘিরে যেসব কারিগরি বিষয় রয়েছে তা অনেক জটিল হয়ে উঠবে। আমার মনে হয় ইরান একে ঘিরে নিজেদের সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দিতে চায়– যা তারা যুদ্ধের আগে পায়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় সে বিষয়টিকে সীমিত করতে এবং হরমুজে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুপক্ষই হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যে অর্থনীতি ও বাণিজ্য রয়েছে তা এড়িয়ে যাচ্ছে। সেখান দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পারাপার হতো। তারা এগুলো বাদ দিয়ে মনোযোগ দিচ্ছে সামরিক প্রভাবের দিকে।
ইরান এর আগে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এটিতে তাদেরই অধিকার রয়েছে। সম্প্রতি তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, তাদের অনুমোদন ব্যতীত হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল সম্ভব নয়। তবে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সে দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে না।
আলোচনার উদ্যোগ কাতারের
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিতীয় দফায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর পানি বহুদূর গড়িয়েছে। নতুন করে টানা দুই দিন হামলার কবলে পড়েছে বাহরাইন ও কুয়েত। ইরানের আঘাত এড়াতে পারেনি কাতার ও জর্ডানও। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের জবাব দিতে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল দেশটি।
নতুন করে হামলার মুখে পড়ে দুপক্ষকে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছিল কাতার। আলজাজিরার খবর বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে দেশটি। চেষ্টা করছে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সব ঠিক করে দিতে। খ্যাতনামা মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে বিষয়টি।
ইসরায়েলের প্রতি হুঁশিয়ারি
এদিকে, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইসরায়েল জানিয়েছিল, তারা পুরো বিষয়টি নজরে রাখছে। প্রয়োজনে তারা আবার সামরিক অভিযানে যোগ দিতে প্রস্তুত এমন মন্তব্যও করা হয়েছিল দেশটির পক্ষ থেকে। ইসরায়েলের সেসব মন্তব্য সামনে আসার পর ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তাদের দেশের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালালে কড়া জবাব দেওয়া হবে। ইসরায়েলিরাও তাদের পাল্টা হামলার কবল থেকে রেহাই পাবে না।
রাষ্ট্রায়ত্ত টিভিতে এক বক্তব্যে মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর এক বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা যেমনটা এর মধ্যেই ঘোষণা দিয়েছি, আমাদের অবকাঠামোতে কোনো আক্রমণ হলে জবাব দেওয়া হবে এবং অপরাধী জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী, যারা এসব নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত, তারাও আমাদের যোদ্ধাদের পাল্টা জবাবের হাত থেকে নিরাপদ থাকবে না।’
আলোচনায় লাভ নেই
সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হলেও বিষয়টি নিয়ে খুব একটা আশ্বস্ত নন বিশেষজ্ঞরা। সামরিক বিশ্লেষক অ্যালেক্স আলফিরাজ স্কিয়ারসের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা আবার শুরু হতে পারে, তবে আমি মনে করি– এখানে মূল সমস্যাটা পুরোপুরি বিশ্বাসহীনতার।
তিনি আরও জানান, আস্থা তৈরির ও বিশ্বাস গঠনের প্রক্রিয়া আবার শুরু না হলে এসব আলোচনা থেকে কোনো ফল আসবে না। আলফিরাজ স্কিয়ারস উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত দুইবার আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়েছে ও বড় মাপের ক্ষতিসাধন করেছে।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- ইরান
- ইরানে হামলা