ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

রেফারি নিয়োগে কৌশল

রেফারি নিয়োগে কৌশল
×

আহসান হাবিব সম্রাট

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ১০:০৫

বিশ্বকাপ ফুটবলে রেফারিদের নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে বহুবারই প্রশ্ন উঠেছে। চলতি বিশ্বকাপও এর বাইরে না। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বের রেফারিদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না বিপুলসংখ্যক ফুটবল অনুরাগী। তারকা খেলোয়াড়দের পাশাপাশি রেফারিদের পারফরম্যান্সের দিকেও নজর রাখছেন অনেকে। আর্জেন্টিনা ও মিসরের শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে বহু ফুটবলবোদ্ধার পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেক ফুটবল ভক্তের ধারণা, ফিফার চাপেই রেফারিরা আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছেন।
বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ও মরক্কো ম্যাচে রেফারি ও দুই সহকারী রেফারি আর্জেন্টনার হওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে ফিফার রেফারি নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যেহেতু ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টের শেষ আটে পৌঁছেছে এবং গত বিশ্বকাপের মতো ফাইনালে আবার তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রিটেনের প্রখ্যাত গণমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ৪৪ বছর আগের ফকল্যান্ড যুদ্ধের কারণে আর্জেন্টিনা ম্যাচে দায়িত্ব পাবেন না ইংলিশ রেফারিরা।

রেফারি নিয়োগে কী বিবেচনায় নেওয়া হয়

বিশ্বকাপে রেফারি নিয়োগে যে বিষয়টি প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হয়, সেটা হচ্ছে রেফারিদের সম্মিলিত পারফরম্যান্স। যেহেতু মাঠে একজন প্রধান রেফারি দুই সহকারীকে নিয়ে ম্যাচ পরিচালনা করেন, এক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে তাদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করে ফিফা। কয়েক বছর ধরে তাদের পারফরম্যান্সের দিকে নজর রেখে এটা করা হয়। তবে রেফারিদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা দেখেই শুধু বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার জন্য তাদের বিবেচনা করা হয় না। এর সঙ্গে অন্যান্য অনুঘটকও বিবেচনায় নেওয়া হয়। যেমন– বিশ্বের ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখে ফিফা। যদিও কোনো রেফারিই টুর্নামেন্টে নিজ দেশের ম্যাচ পরিচালনা করতে পারেন না। এ ছাড়া যে ম্যাচের ফলের প্রভাব ওই রেফারির নিজ দেশকে সুবিধা এনে দিতে পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়। এ কারণে পানামা-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে ইংল্যান্ডের কোনো রেফারিকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। একই কারণে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচেও ইংলিশ রেফারিরা ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাননি। কারণে ওই ম্যাচের বিজয়ী দলের সঙ্গে সেমিফাইনালে থ্রি লায়ন্সদের দেখা হতে পারে। 

তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে, ফ্রান্স ও মরক্কো ম্যাচে কেন আর্জেন্টাইন রেফারিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত সেখানে অন্য ভূরাজনৈতিক ফ্যাক্টর বিবেচনায় নিয়েছে ফিফা। যেমন– একটি আফ্রিকান দেশের সঙ্গে একটি ইউরোপীয় দেশের লড়াইয়ের বিষয় বিবেচনায় রেখে এই দুই মহাদেশের কোনো রেফারি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। একই কারণে বিশ্বকাপে আমেরিকান কোনো রেফারিকে ইরান ম্যাচে দায়িত্বে রাখা হয়নি। যেহেতু সম্প্রতি দুই দেশ সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে ফিফার ধরাবাঁধা কোনো নীতিমালা নেই। ফিফার রেফরিজ কমিটি বিশ্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বাভাবিক ‘কমনসেন্স’ খাটিয়ে টুর্নামেন্টের রেফারি নিয়োগ করে থাকে।

ফুটবলে ফকল্যান্ড যুদ্ধ কী এখনও ফ্যাক্টর

১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এ কারণে ফুটবলে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা ম্যাচ মানেই ক্রিকেটে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মতো উত্তেজনা। কোনো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড অন্য কোনো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলেও ফিফা এসব ম্যাচে এই দুই দেশের কোনো রেফারি নিয়োগ দেয় না। এমনকি যেসব ম্যাচের ফল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এমন ম্যাচগুলোতেও সচেতনভাবে ইংলিশ ও আলবিসেলেস্তে রেফারি নিয়োগ দেয় না ফিফা। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে ফুটবল ম্যাচের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয় না। এসব পুরোনো বিষয়ে তেমন তাৎপর্য না থাকায় ইংল্যান্ডের ম্যাচে জার্মান রেফারি নিয়োগ পেতে দেখা যায়। 

আরও পড়ুন

×