ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা বন্ধের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চায় যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা বন্ধের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চায় যুক্তরাষ্ট্র
×

হরমুজ প্রণালী। ছবি:রয়টার্স

বিবিসি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৫ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ | ১১:১৩

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো বন্ধে ইরানের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চায় যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ওমানে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় ওয়াশিংটনের মূল দাবি থাকবে, তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে যে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে আর কোনো হামলা হবে না।

ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে চলতি সপ্তাহের সংঘাতকে হোয়াইট হাউস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করলেও উভয় দেশ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‌‌‍ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের কাছে ‘আলোচনা’ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে হবে যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত থাকবে এবং তারা বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ রাখবে। একই সঙ্গে জাহাজে হামলার ঘটনাটি যে ভুল ছিল, সেটিও প্রকাশ্যে স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‌‌‍হয় তারা আমাদের সেই বিবৃতি দেবে, নতুবা তাদের জন্য পরিস্থিতি সুখকর হবে না।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অংশ নিতে পারেন। একই সময়ে উত্তেজনা প্রশমন এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদলও ইরান সফর করেছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত শুরুর পর শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আওতায় ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

তবে চলতি সপ্তাহে ওমানের জলসীমা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশকৃত পথ ব্যবহার করার সময় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের জলসীমার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত পথই একমাত্র নিরাপদ রুট।

গত মাসে দুই দেশ ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়, যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ‘সব ফ্রন্টে’ সংঘাতের অবসান। ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সংঘাত চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে ‘পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতিপত্র পরিচালনা করবে। ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থার দাবি, নতুন চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানই প্রণালীটির পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। এর মধ্যে জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে সম্ভাব্য সেবা ফি আদায়ের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন

×