ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনার সঙ্গে কুলিয়ে ওঠা কঠিন

আর্জেন্টিনার সঙ্গে কুলিয়ে ওঠা কঠিন
×

সাবিনা খাতুন

সাবিনা খাতুন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪৫

দেখতে দেখতে বিশ্বকাপটা প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে। ব্রাজিল-জার্মানির মতো দলের বিদায়ে যেমন ফুটবল বিশ্ব অবাক হয়েছে, তেমনি করে কেপ ভার্দের মতো ছোট একটি দেশ যেভাবে পারফরম্যান্স করেছে তাতে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপটি অনেক ভাবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এখন চলছে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই। যে লড়াইয়ে টপ ফেভারিট আর্জেন্টিনা আছে। মিসরের মতো দলের বিপক্ষে প্রায় অঘটনের শিকার হতে যাচ্ছিল আর্জেন্টিনা। শেষ দিকে দলটির ফুটবলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে চাপকে জয় করেছেন। মিসরের হাতে থাকা ম্যাচ নিজেদের মুঠোয় নিয়ে আর্জেন্টিনা প্রমাণ করেছে তারা এই বিশ্বকাপটিও জেতার জন্য এসেছে। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড। আমাকে যদি বলা হয় কে এগিয়ে, আমি আর্জেন্টিনাকেই ফেভারিট হিসেবে রাখব।

পরপর দুটি ম্যাচ কিন্তু কষ্ট করে জিততে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি তো অসাধারণ ছিল। আপনার ৭৯ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থাকার অর্থ হলো ম্যাচ থেকে আপনি ছিটকে গিয়েছেন। তবে, লিওনেল মেসি-এনজো ফার্নান্দেজরা হাল ছাড়েননি। তাদের প্রতিনিয়ত আক্রমণের কারণে মিসরের ফুটবলাররা দিশেহারা হয়ে যান। এরপর ১৪ মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনা তিন গোল করে। খুব চাপের ম্যাচ খেলার পর আমার কাছে মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনার প্রত্যেক ফুটবলার এখন মানসিকভাবে আরও শক্ত হয়েছে। চাপের সময় কীভাবে খেলতে হয় মেসিরা ভালো করেই জানেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে এই জিনিসগুলো কাজে দেবে আর্জেন্টিনাকে।

শেষ ষোলোতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জিতেছে সুইজারল্যান্ড। ওই ম্যাচে ভালো খেলেছিল কলম্বিয়াই। পেনাল্টি শুট আউটে সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন। সেই হিসেবে আমার কাছে মনে হয় আর্জেন্টিনা চাইবে নব্বই মিনিটের মধ্যেই ম্যাচটি শেষ করে দিতে। সেই সামর্থ্য লিওনেল স্কালোনির দলটির আছে। আর্জেন্টিনার প্লাস পয়েন্ট হলো আক্রমণভাগটা অনেক শক্তিশালী। মেসির গোল তৈরি করে দেওয়ার ক্ষমতা এবং নিজে গোল করতে পারাটা ইতিবাচক দিক। আর মেসি তো প্রতিটি ম্যাচেই নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। বলতে পারেন মেসি একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। অন্যরাও যে খুব খারাপ খেলছে তা কিন্তু নয়, তবে পার্থক্যটা মেসিই গড়ে দিচ্ছেন। সুইজারল্যান্ডের কোচ অবশ্যই মেসির জন্য আলাদা পরিকল্পনা সাজাবেন। এর বাইরে কোনো উপায় নেই। কারণ মেসিকে আটকাতে না পারলে প্রতিপক্ষের কী হবে সেটি সবাই জানে। সুইজারল্যান্ডেরও জানার কথা।

সুইজারল্যান্ডের খেলার কৌশল একটু ভিন্ন। তারা রক্ষণাত্মক কৌশলেই খেলে আসছে। কাউন্টার অ্যাটাকে গোল আদায় করার চেষ্টা করে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও হয়তো তাই করবে, যেমনটি মিসর করেছিল। বাস্তবে আর্জেন্টিনার এই দলের সঙ্গে কুলিয়ে ওঠাটা সুইজারল্যান্ডের জন্য কঠিনই বটে। তারপরেও বলা যায় না। কারণ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে তো আমরা অনেক অঘটন দেখেছি।

সাবিনা খাতুন, ফুটবলার, জাতীয় নারী দল

আরও পড়ুন

×