দেশীয় শিল্পের স্পন্দন
গত ৫ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত চলা ‘বিসিক বর্ষামেলা’য় উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীর একাংশ
রিক্তা রিচি
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ১২:৪১ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ | ১২:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
বর্ষার স্নিগ্ধতা, বাংলার ঐতিহ্য এবং দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্য একসূত্রে গেঁথে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বিসিক ভবনে আয়োজিত হলো পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক বর্ষামেলা-২০২৬’। গত ৫ জুলাই (রোববার) শুরু হয়ে এ মেলা চলেছে ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। মেলার উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, কুটির, মাইক্রো ও মাঝারিশিল্প (সিএমএসএমই) খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করার বিষয়ে সরকারের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। অন্যদিকে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের মতে, বিসিক শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের বাস্তব রূপ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা উদ্যোক্তারা তাদের সৃজনশীল ও শৈল্পিক পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন ৫৬টি স্টলে।
মেলা প্রাঙ্গণে পা রাখতেই চোখে পড়ে দেশীয় বুননের চমৎকার সব কাজ। তাঁত, জামদানি, মণিপুরি, শতরঞ্জি, খাদি ও হ্যান্ডলুমের শাড়ির পাশাপাশি পাট ও চামড়াজাত পণ্যের বিপুল সমারোহ দর্শনার্থীকে মুগ্ধ করেছে। নিজস্ব নকশার শাড়ি ও হাতে তৈরি গহনা নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছিলেন ‘কুহেলিকা’ উদ্যোগের স্বত্বাধিকারী শ্রাবণী স্নেহা। তাঁর সংগ্রহে থাকা নিজস্ব তাঁতে বোনা জামদানি, এন্ডি কটন, কোটা কটন, হ্যান্ডলুম ও খাদি সিল্কের শাড়িগুলো যেন একেকটি ক্যানভাস। প্রতিটি শাড়িতেই নিজস্ব নকশার ছাপ স্পষ্ট, যেখানে ব্লক ও এমব্রয়ডারির সুনিপুণ কাজ ফুটে উঠেছে। শ্রাবণী জানান, তাঁর অধীনে বেশ কয়েকজন নারীকর্মী কাজ করেন, যাদের তিনি নিজেই নকশার প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিয়ে গহনা তৈরির জন্য প্রস্তুত করেছেন।
মেলার আরেক আকর্ষণ ছিল ‘অরবিটাল হ্যান্ডিক্র্যাফটস’। মাদারীপুর থেকে আসা এই উদ্যোগের কর্ণধার ইকবাল হোসেন খন্দকার জিপসাম বা সাদা সিমেন্টের তৈরি নান্দনিক পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। তিনি জানান, তাঁর স্টলে থাকা ফুলের টব, জুয়েলারি বক্স, ক্যান্ডল হোল্ডার এবং রেজিনের চাবির রিং, কানের দুল ও হিজাব পিনের মতো হস্তশিল্পগুলো বেশ সাড়া ফেলেছে।
এ ছাড়াও মেলার বিভিন্ন স্টলে কুশিকাঁটার ক্যাকটাস, কাপড়ের গোলাপ, গামছা শাড়ি, পাটের তৈরি ওয়াল হ্যাঙ্গিং, বাঁশ-কাঠ-নারকেলের খোলের তৈরি মগ ও বাবুই পাখির বাসা–গ্রামীণ ঐতিহ্যের কথাই যেন নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। শহুরে জীবনে খাঁটি দেশীয় খাবারের স্বাদ পৌঁছে দিতে বিভিন্ন জেলার উদ্যোক্তারা মেলায় নিয়ে এসেছিলেন খাঁটি মধু, হরেক রকমের আচার, নাড়ু, কটকটি, চিংড়ির বালাচাও, সরিষার তেল, ঘি, ঢেঁকিছাঁটা লাল চাল, যবের ছাতু ও আখের লাল চিনি।
রাজধানীর মিরপুর থেকে আসা নিয়মিত দর্শনার্থী সাবিহা স্বর্ণা মনে করেন, এ ধরনের মেলাতেই নতুন ও পুরোনো উদ্যোক্তাদের নিজস্ব ডিজাইনের ব্যতিক্রমী পণ্য পাওয়া যায়, যা সাধারণ বাজারে দুর্লভ। মূলত এ কারণেই দেশীয় পণ্য কিনতে তিনি এসব মেলাকে প্রাধান্য দেন।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য এমন সরকারি আয়োজন শুধু পণ্য প্রদর্শনের একটি মঞ্চ নয়; বরং এটি মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, বাজার সম্প্রসারণ এবং বিক্রি বাড়ানোর এক বিশাল সুযোগ।
- বিষয় :
- শিল্প প্রদর্শনী