তুরস্কে শিক্ষার্থীদের ছবি-ভিডিও অনলাইনে প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা
শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হুরিয়েত ডেইলি নিউজ
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ১০:০৯
শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় স্কুলে তোলা ছবি, ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তুরস্ক। একই সঙ্গে আগে প্রকাশিত এ ধরনের সব কনটেন্ট দ্রুত অনলাইন থেকে সরিয়ে ফেলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত ৯ জুলাই দেশের সব স্কুলে পাঠানো ১০ দফা নির্দেশিকায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তুরস্কের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় জারি করা এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের কোনো ব্যক্তিগত তথ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বা অন্য কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা যাবে না।
নিষিদ্ধ তথ্যের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের নাম, শ্রেণিভিত্তিক তালিকা, শিক্ষার্থী পরিচিতি নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পরীক্ষার ফলাফল, উপস্থিতির তথ্য এবং অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত রেকর্ড। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছবি বা ভিডিও প্রকাশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুলগুলোকে তাদের আগের অনলাইন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রকাশ্যে থাকা শিক্ষার্থীদের সব ছবি ও ভিডিও দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।
তবে শিক্ষামূলক প্রয়োজনে কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ কিংবা প্রকাশের প্রয়োজন হলে আগে থেকেই এর উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হবে। সেই সঙ্গে কোথায় প্রকাশ করা হবে, কত দিন সংরক্ষণ করা হবে এবং কারা তা দেখতে পারবেন-এসব বিষয় লিখিতভাবে নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে বিপুল অনুসারী অর্জন এবং ‘সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার’ হয়ে ওঠার প্রবণতা বাড়ায় সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
গত কয়েক বছরে তুরস্কে কিছু শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রম ভিডিও করে নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করতেন। এসব ভিডিও লাখ লাখবার দেখা হলেও শিক্ষার্থীদের সম্মতি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
শিক্ষাবিদ ও শিশু অধিকারকর্মীদের মতে, শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। বিশ্বজুড়ে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় তুরস্কের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।