ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

গাজা ইস্যুতে ব্রিটিশ রাজনীতিতে টানাপোড়েন

যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের ফিলিস্তিনপন্থি প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের ফিলিস্তিনপন্থি প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
×

ছবি: ইয়াসিন সুদান/এমইই

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৩:০৩

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে ফিলিস্তিনপন্থি প্রতীক ব্যবহার এবং আন্দোলনে মেডিকেল স্ক্রাব পরে অংশগ্রহণ সম্প্রতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এনএইচএস ইংল্যান্ডের এই নতুন নির্দেশনা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন এবং চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মিডলইস্ট আইয়ের খবর জানায়, সাবেক ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ২০২৫ সালের একটি রিপোর্টের সুপারিশে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা জানিয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে এমন সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক। কর্মক্ষেত্রে কোনটি রাজনৈতিক আর কোনটি মানবিক প্রতীক, তা নির্ধারণের সঠিক মাপকাঠি কী– সেই প্রশ্নও তুলেছে তারা।

সমালোচকদের মতে, গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতার বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের প্রতিবাদ ও সংহতি দমনের জন্য ইহুদিবিদ্বেষের ভয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ব্রিটিশ সরকার। গাজায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া ব্রিটিশ সার্জন প্রফেসর নিক মেনার্ড বলেন, বর্তমান ব্রিটিশ সরকার অসৎ নীতি খাটিয়ে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছে।

লেবার পার্টির সংসদ সদস্য কিম জনসন এই নির্দেশনার বিরোধিতা করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বিশ্বজুড়ে যে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে, তা দমনের অংশ হিসেবেই যুক্তরাজ্যে এই বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে কাজ করা চিকিৎসকদের সংগঠন মেড্যাক্টের মুখপাত্র নিনা রাডুলোভিচ মন্তব্য করেন, নীতিনির্ধারকরা মূল আলোচনা এড়িয়ে ব্যাজ বা প্রতীক নিয়ে একটি কৃত্রিম আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন।

বিতর্কিত প্রতিক্রিয়ার জন্য অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ক্ষমা প্রার্থনা

গাজা ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। আলজাজিরার খবর জানাচ্ছে, লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গাজা যুদ্ধের শুরুতে তার দলের বিতর্কিত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় বার্নহ্যাম স্বীকার করেন, তাঁর দল শুরুতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে যুক্তরাজ্যের অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।

তবে সমালোচকরা মনে করেন, আসন্ন নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ের জন্যই বার্নহ্যাম এখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে পণ্য বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পক্ষে এসেছেন।

ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমেছে মার্কিনদের

নতুন একটি জরিপে দেখা যায়, গাজা যুদ্ধের পর ইসরায়েলিদের প্রতি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক কমে গেছে। ২০২২ সালে যেখানে ৬৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরায়েলিদের পছন্দ করতেন, এখন তা কমে ৫২ শতাংশে নেমেছে। আমেরিকার ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণদের মধ্যে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি। তরুণদের ৫৮ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের পছন্দ করেন, আর ইসরায়েলিদের পছন্দ করেন ৩২ শতাংশ।

গাজায় নিহত আরও ৬

আন্তর্জাতিক এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই গাজার পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বন্ধ হয়নি। গতকাল শুক্রবারের খবরে জানানো হচ্ছে, ইসরায়েলি ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণে গাজায় আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত এক হাজার ৯২ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।

এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় এবং হেবরন হিলসে ইসরায়েলি সেনা এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানায়, হেবরন হিলস এলাকার হামলায় দুই শিশুসহ মোট সাতজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন

×