ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

হাটহাজারীতে মেয়ের সামনে দর্জিকে কুপিয়ে হত্যা

হাটহাজারীতে মেয়ের সামনে দর্জিকে কুপিয়ে হত্যা
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে শিশুকন্যার সামনে মোহাম্মদ আজম (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার মেখল ইউনিয়নের খলিফাপাড়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পেশায় দর্জি আজম পুলিশের তথ্যদাতা (সোর্স) হিসেবে কাজ করতেন বলে কিছু সূত্রে জানা গেছে। এদিন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নিখোঁজ এক যুবকের ও সাতক্ষীরায় নিখোঁজ এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে মিলেছে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর লাশ।

মেয়ের সঙ্গে মাছ ধরতে যান আজম
স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে মোহাম্মদ আজমের সংসার। নিজ বাড়িতেই কাপড় সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাটহাজারীর মেখল ইউনিয়নের মেখল গ্রামের খলিফাপাড়ার পাশে বিলে মাছ ধরতে যান আজম। এ সময় তাঁর এক মেয়েও সঙ্গে ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, মাছ ধরার সময় আজমের সঙ্গে পুরোনো বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে তারা আজমকে ধাওয়া করে। পালানোর সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী বলেন, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, গতকাল সকালে বাড়ির পাশে জমিতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। সেখানে তর্কাতর্কির জেরে তাঁকে হত্যা করা হয়। তাঁর ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি মাছ ধরার ঘটনায় নয়, জমি-সংক্রান্ত বিরোধে ঘটেছে।

খেলা দেখে ফেরেনি সবুজ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর সবুজ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের হাসাকোলা গ্রামের রাস্তার পাশে পাওয়া যায় তাঁর লাশ। সবুজ উপজেলার রতনকান্দি উত্তরপাড়া গ্রামের রহিম সরকারের ছেলে।
সবুজের স্ত্রী মোছা. মিতু খাতুনের ভাষ্য, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে ফুটবল খেলা দেখার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন সবুজ। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও তাঁর সন্ধান পাননি।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, গতকাল শুক্রবার সকালে হাসাকোলা গ্রামের জনৈক নান্নুর বাড়ির রাস্তার উত্তর পাশে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয় লোকজন। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় তাঁর চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এ কারণে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবেই ধারণা করছে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে।

ঘেরে কিশোরের লাশ
নিখোঁজ হওয়ার তিন দিনের মাথায় সাতক্ষীরার একটি ঘেরে মিলেছে আব্দুর রহমান (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মরদেহ। গতকাল শুক্রবার সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের কুলপোতা এলাকার একটি

মাছের ঘেরে পাওয়া যায় লাশটি।
নিহত আব্দুর রহমান ওই এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে। সে কুলপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। গত বুধবার সকাল থেকে তাঁর খোঁজ পাচ্ছিলেন না স্বজনেরা।
আব্দুর রহমানের খালা শেফালি খাতুনের ভাষ্য, ছেলেটির যখন ৫ বছর বয়স, তখন তাঁর মাকে তালাক দিয়ে চলে যান বাবা। মায়েরও পরে বিয়ে হয়। এর পর থেকে তিনিই ভাগনেকে লালন-পালন করছিলেন। গত বুধবার সকালে তিনি স্বামীকে নিয়ে সাতক্ষীরা শহরে চিকিৎসকের কাছে যান। বাড়ি ফিরে আব্দুর রহমানকে পাচ্ছিলেন না। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাননি। গতকাল শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরে রহমানের লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিছুর রহমান বলেন, মরাদেহ উদ্ধার করে ময়নাদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে।

অজ্ঞাতপরিচয় নারীর লাশ
খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে গতকাল শুক্রবার পাওয়া গেছে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ। এদিন সকাল উপজেলার ২৪ মাইল এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহালছড়ি যৌথ খামার ও মুড়াপাড়ার মাঝামাঝি এলাকায় কলেজের বিপরীতে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরের একটি জঙ্গলে মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। তাদের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
এলাকাবাসীর ধারণা, মরদেহটি কোনো মারমা নারীর। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। মহালছড়ির থানার ওসি মির্জা জাহির আহম্মেদ জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ির মর্গে পাঠিয়েছেন। ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত ও তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন

×