স্মরণসভায় বক্তারা
আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন আলোকিত মানুষ
আবুল কাসেম ফজলুল হক
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৬ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১০:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক শুধু একজন শিক্ষক, গবেষক কিংবা সাহিত্য সমালোচক নন; বরং একজন বিনয়ী, মানবিক ও আলোকিত মানুষ ছিলেন। জ্ঞানচর্চা, ইতিহাসবোধ ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের যে দর্শন তিনি আজীবন ধারণ করেছেন, সেটিই আগামী প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার।
বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তাঁর সহকর্মী, স্বজন, শিক্ষার্থী, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীরা। গতকাল শনিবার রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে এ সভার আয়োজন করে ডেইলি স্টার।
স্মরণসভার শুরুতে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং সাম্প্রতিক বন্যায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি নীরব শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে সানজিদা ইসলাম কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমি চিরতরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে’ গান পরিবেশন করেন। ইমরান মাহফুজের সঞ্চালনায় এতে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম উপস্থিত ছিলেন।
গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা মতের ভিন্নতা– কোনো পরিস্থিতিতেই তিনি অধ্যাপক ফজলুল হককে উত্তেজিত হতে দেখেননি। তিনি ছিলেন অসাধারণ ধৈর্যশীল ও বিনয়ী। লেখালেখির বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিতেন বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, অনেকের মৃত্যুতে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ কথাটি প্রচলিতভাবে বলা হলেও অধ্যাপক ফজলুল হকের ক্ষেত্রে সেটি বাস্তব সত্য। তাঁর মতো ব্যক্তিত্বের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, সহকর্মী হওয়ার চেয়ে তিনি নিজেকে অধ্যাপক ফজলুল হকের ছাত্র পরিচয়েই বেশি গর্বিত মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তাঁর কোনো ক্লাস তিনি বাদ দেননি।
সাহিত্যিক মোরশেদ শফিউল হাসান বলেন, ছেলে দীপন হত্যাকাণ্ডের পরও অধ্যাপক ফজলুল হকের যে সংযম ও মানবিক অবস্থান তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, তা তাঁর ব্যক্তিত্বের গভীরতার পরিচায়ক। তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক ফজলুল হক বিশ্বাস করতেন, সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছাড়া সমাজে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন স্থায়ী হতে পারে না। তাই তাঁকে স্মরণ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় তাঁর লেখাগুলো পাঠ করা।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মেয়ে শুচিতা শারমিন বলেন, তাঁর বাবা কখনও ব্যক্তিগত লাভ কিংবা দলীয় রাজনীতির চিন্তায় পরিচালিত হননি। দেশের মানুষ এবং সমাজের কল্যাণই ছিল তাঁর ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু।
সংগঠক ফয়জুল হাকিম বলেন, সংগঠন গড়ে তোলা এবং তরুণদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে অধ্যাপক ফজলুল হক নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর পরামর্শ বহু তরুণের চিন্তা গঠনে প্রভাব ফেলেছে।
- বিষয় :
- স্মরণসভা