ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

৬৬০০ এমএফএস অ্যাকাউন্টের সিম জব্দ, হোতাসহ গ্রেপ্তার ৬

৬৬০০ এমএফএস অ্যাকাউন্টের সিম জব্দ, হোতাসহ গ্রেপ্তার ৬
×

চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ২১:৫২ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ২২:৫৬

অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনে জড়িত একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে ছয় হাজার ৬০০টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট সংশ্লিষ্ট সিম, বিভিন্ন অপারেটরের ৬৭টি সিম, ৭০টির বেশি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন– আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) এবং মশিউর রহমান তারেক (২০)।     

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, গাজীপুরের টঙ্গীর একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় কুমিল্লা সদরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।    

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানান, অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপে অর্থ লেনদেনে কাজ করছে গু পে, পে কাশমা, লাকি পে, এলকিউ পে, এক্সই পে ও কোল পে এবং আরও অনেক কোম্পানি। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই চালাচ্ছে চীনা নাগরিকরা। বাংলাদেশে লেনদেন করতে তারা স্থানীয়দের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে। তবে অধিকাংশ লেনদেন হয় এমএফএস অ্যাকাউন্টে।    

ডিবির দাবি, জুয়ার অর্থ প্রথমে এমএফএস এজেন্ট অ্যাকাউন্টে আসে। পরে তা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে এনে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল মুদ্রা ইউএসডিটি করে বিদেশে পাঠানো হয়।    

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ায় ২০০টি পেমেন্ট কোম্পানি সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তারদের নিয়োগকারী গু পে দৈনিক পাঁচ কোটি টাকার বেশি লেনদেন করে। আর দেশের অনলাইন জুয়ার বাজারে এমএফএস দিয়ে প্রতিদিন এক হাজার কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়।     
‎‎ডিবির ভাষ্যে, গ্রেপ্তার আরিফুল ইসলাম রিফাত বাংলাদেশ অংশের মূল সমন্বয়কারী। তিনি চীনা নাগরিক ‘নাথান’ ওরফে ‘অ্যালিন’ (ছদ্মনাম) নামে এক ব্যক্তির হয়ে কাজ করতেন। চীনা চক্রটি আগে বাংলাদেশে ছিল। বর্তমানে তারা চীন থেকেই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

গ্রেপ্তার রিফাতের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ডিবি বলছে, ‘মোট লেনদেনের শূন্য দশমিক ২ থেকে ১ শতাংশ কমিশন পেত তাদের চক্র। অর্থের বড় অংশ এমএফএস এজেন্ট, ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও), সুপারভাইজার ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের মধ্যে ভাগাভাগি হতো। তাদের আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয়ও বহন করত বিদেশি পেমেন্ট কোম্পানি।’    

সম্প্রতি ৩০০ ফিট এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়া বিএমডব্লিউ গাড়িটি রিফাতের। আরও একটি বিএমডব্লিউ রয়েছে তাঁর। এসব সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখছে ডিবি। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অপরাধে ব্যবহৃত সম্পদ জব্দে অভিযান চলছে। ‎‎গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ডিবি।     

জুলাই আন্দোলনের ৫৯ মামলা তদন্তে ডিবি    

ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট ৫৯টি মামলার তদন্ত চলছে। এই আন্দোলনের প্রায় ৪০ জিবি ডেটা আছে। বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ, আসামির সংখ্যা বেশি হওয়ায় তদন্ত কাজে সমস্যা হচ্ছে। সবগুলো বিষয় যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

×