বিতর্কিত উদযাপনে সাজার শঙ্কায় মার্টিনেজরা
আর্জেন্টিনার মালভিনাস উদযাপন। ছবি: আল জাজিরা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ২৩:০৪
টানা দু’বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা বুধবার রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক কামব্যাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলারকে ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
ছবি ও ভিডিও থেকে দেখা গেছে- আর্জেন্টিনার ম্যাক অ্যালিস্টার, লিয়ান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস ওতামেন্ডি, লো চেলসোরা হাতে ব্যনার নিয়ে উদযাপন করছেন। যাতে স্প্যানিশে লেখা- লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস। যার বাংলা অর্থ ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’।
ফিফার ম্যাচের আগেও এ নিয়ে সতর্ক করেছিল। তারপরও নিয়ম ভাঙার ঘটনায় সম্পৃক্ত ফুটবলাররা ফিফার শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ের শাস্তির আওতায় আসতে পারেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এএফএ) জরিমানার আওতায় আসতে পারে।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধিতে বলা আছে, ফিফার প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক, আদর্শিক বা ধর্মীয় বার্তা প্রদর্শন করে অন্যের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ। নিয়মের বাত্যয় ঘটলে ফিফা খেলোয়াড় বা ফেডারেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ সাজা প্রদান করার ক্ষমতা রাখে।
তবে সাজা দেওয়ার আগে, ফিফা বিষয়টির তদন্ত করে। এরপর অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে বিভিন্ন পর্যায়ের সাজা দিতে পারে। এর আগে ২০১৮ সালে সার্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে উদযাপন করেছিল সুইজারল্যান্ড। ওই ঘটনায় গ্রানিত শাকা ও জর্ডান শাকিরিকে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক জরিমানা করেছিল। দলটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ৫ হাজার ফ্রাঙ্ক জরিমানা খেয়েছিলেন।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের দখল নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বন্দ্ব বহু পুরনো। ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার কাছের একটি দ্বীপপুঞ্জ। যা প্রায় ২০০ বছর ধরে ইংল্যান্ডের দখলে আছে। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জের দখল নিয়ে আড়াই মাসের একটা যুদ্ধও হয়েছিল। যাতে প্রায় এক হাজার আর্জেন্টাইন নিহত হয়েছিলেন। তবে দ্বীপপুঞ্জটির দখল পায়নি আর্জেন্টিনা। দেশটির জনগণ মনে করে, ফকল্যান্ড এখনো তাদেরই। বিশ্বকাপে ম্যাচ জিতে উদযাপন থেকে যা আরও পরিষ্কার।
- বিষয় :
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬