ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা

দক্ষতায় সন্তুষ্ট না হলে মন্ত্রিসভায় রদবদল করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

দক্ষতায় সন্তুষ্ট না হলে মন্ত্রিসভায় রদবদল করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী
×

সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান (মাঝে) পিআইডি

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, কারও কর্মদক্ষতায় প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট না হলে প্রয়োজন অনুযায়ী দপ্তর পুনর্বণ্টন কিংবা মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর যদি মনে হয় কোনো সিদ্ধান্ত আরও ভালোভাবে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাহলে তিনি অবশ্যই সেটি করবেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়ে আমার কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। গণমাধ্যমেই এই আলোচনা দেখছি। এর বেশি কিছু জানি না। তবে প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টার কাজ সন্তোষজনক মনে না করলে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বা নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’ সরকারের পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক সংস্কার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গুমের অভিযোগ, দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটি মন্ত্রিসভা তৈরি করেছেন। একটি উপদেষ্টা পরিষদ তৈরি করেছেন। যেটুকু তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আমি বুঝি, তাঁর যদি কখনও মনে হয়, কেউ ভালো পারফর্ম করতে পারছেন না, সেই জায়গায় দপ্তর পুনর্বণ্টন অথবা নতুন কাউকে দেওয়া, এগুলো যদি প্রয়োজন হয়, সেটা তিনি করবেন। কারণ, দিন শেষে জনগণের কল্যাণ সাধন করাই মূল উদ্দেশ্য। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কোনো পছন্দ বা সিদ্ধান্ত আরও ভালো করার সুযোগ যদি থাকে, তিনি সেটা করবেন। তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে এটা মনে হয়েছে। এটা এখন ১৮০ দিনের (সরকারের ১৮০ দিন) পরপর হবে, নাকি তার চেয়ে একটু সময় লাগবে, এটা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।’

সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান 
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সাইবার বুলিং ও অপতথ্য রোধে আইনগত বিষয় দেখভালের জন্য একটি আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ, ডিপফেক, ভুয়া তথ্য (ডিসইনফরমেশন), মিথ্যাচার এবং সামাজিক মাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিশেষ আইনজীবী প্যানেল গঠনের সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শুধু আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি বাকি রয়েছে, যা আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই হবে। নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ডিপফেক, মিথ্যাচার ও সাইবার বুলিং কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

ডা. জাহেদ বলেন, সরকার শুরু থেকেই তথ্যের অপব্যবহার, বিশেষ করে ডিসইনফরমেশন এবং সাইবার বুলিংকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের ফলে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো, ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে প্রচার করা এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এসব কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তির সম্মানহানি ঘটাচ্ছে না, বরং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং মানুষের নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নারীরা সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। শুধু নারী হওয়ার কারণেই অনেককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপমান, হুমকি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং মিথ্যা প্রচারণার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, আইনজীবী প্যানেল শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেবে না, প্রয়োজন হলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারবে। সরকার যেসব ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, সেসব ক্ষেত্রেও প্যানেল সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা প্রদান করা। তথ্য উপদেষ্টা নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান, কেউ যদি সাইবার বুলিং, ডিপফেক, মিথ্যা তথ্য বা অনলাইন হয়রানির শিকার হন, তাহলে যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন রয়েছে, তেমনি এর দায়িত্বশীল ব্যবহারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলধারার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় যাচাই-বাছাইয়ের একটি প্রক্রিয়া থাকে। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা নেই। যে কেউ যে কোনো তথ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে দিতে পারেন। এ কারণে ব্যবহারকারীদের আরও সচেতন হতে হবে এবং কোনো তথ্য বা ছবি যাচাই ছাড়া শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। 

উপদেষ্টা জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জ্বালানি খাতের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির জন্য ৪০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার মধ্যে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন নিশ্চিত হয়েছে এবং এর মধ্যে ১২৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাকি কূপগুলো খনন করে আরও প্রায় এক হাজার ৪৯১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত যথাযথভাবে অনুসন্ধান করা গেলে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার ‘নিরাপদ খাদ্য প্রবিধানমালা-২০২৬’ জারি করেছে। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকার  পরিবেশবান্ধব পাটজাত ব্যাগ ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে।
শিল্প খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি মিল পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি ভর্তুকির চাপ কমবে বলে সরকার আশা করছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান কর্মসংস্থানও সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন

×