আট বিভাগেই ভারী বৃষ্টির আভাস
কয়েক দিন হালকা বৃষ্টি হলেও রাজশাহীতে ভ্যাপসা গরম ছিল। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের পর টানা আড়াই ঘণ্টা বৃষ্টি হয়। এতে স্বস্তির চেয়ে ভোগান্তিই বেশি পোহাতে হয় নগরবাসীকে। বিদ্যালয় ফেরার পথে ভিজে যায় শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন স্থানে জমে হাঁটুপানি। নগরীর শিমলা প
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের আট বিভাগেই আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা গতকাল মঙ্গলবার বলেন, সার্বিকভাবে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমলেও দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি তুলনামূলক বেশি থাকবে। তবে দেশের আট বিভাগেই কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো এলাকার পরিবর্তে সারাদেশেই বিচ্ছিন্নভাবে এ ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের গতকাল মঙ্গলবার সকালের বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি অংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার চারটি পয়েন্টে তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি, সুরমা নদীর ছাতক এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা স্টেশনে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
কেন্দ্রের গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিনে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী এক দিন আরও বাড়তে পারে। আজ বুধবার এসব নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগামী দুই দিন সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে কিংবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে। তবে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর চলমান বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
অন্যদিকে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী দুই দিনের মধ্যে আত্রাই নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নওগাঁ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁর কিছু এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমা ছুঁতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদনদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- বিষয় :
- বৃষ্টি