শিশুর অভিভাবকত্ব নির্ধারণে আইন সংস্কারের দাবি
রাজধানীর শুক্রাবাদে গতকাল শনিবার সিজিইপি আয়োজিত সংলাপে আলোচকরা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫৯ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ১২:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেলে কিংবা স্বামী বা স্ত্রী কোনো একজনের মৃত্যুর পর সন্তানরা কার কাছে থাকবে বা কে হবে তাদের অভিভাবক, তা নিয়ে প্রায়ই সমস্যা দেখা দেয়। বাংলাদেশে নাবালক সন্তানের তত্ত্বাবধান, অভিভাবকত্ব ও ভরণপোষণের বিষয়গুলো পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ ও গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট ১৮৯০ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সাধারণত নাবালকের অভিভাবক তার বাবা। তার অনুপস্থিতিতে বা অযোগ্যতায় মা, অথবা আদালত নিয়োজিত ব্যক্তি শিশুর অভিভাবক হতে পারেন। এ ছাড়া পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ অনুসারে, একটি শিশুর তত্ত্বাবধানের অধিকার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পেয়ে থাকে শিশুর মা। এ ক্ষেত্রে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সন্তানের জিম্মাদার হলেও তিনি অভিভাবক নন। তবে এসব বিধি বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাসঙ্গিক নয় মন্তব্য করে আইনগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
গতকাল শনিবার শিশুদের অভিভাবকত্ব
সম্প্রসারণ প্রস্তাব (সিজিইপি) আয়োজিত সংলাপে কয়েকজন মা এ নিয়ে কথা বলেন। শিশুদের হেফাজত ও অভিভাবকত্ব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি বাস্তবতা এবং এর প্রভাব নিয়ে রাজধানীর শুক্রাবাদে দৃকপাঠ ভবনে এ সংলাপ আয়োজনে সহায়তা করেছে নাগরিক কোয়ালিশন।
সংলাপে শিশুর অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি জটিলতার উল্লেখ করে সিজিইপির কনভেনর ও আইনজীবী দিলরুবা শরমিন বলেন, এমন বহু মা রয়েছেন, যারা সন্তানের স্কুলে ভর্তি, চিকিৎসার মতো সিদ্ধান্তে আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন না। এ সময় সিজিইপির গবেষক তৃষিয়া নাশতারান বলেন, ১৮৯০ সালের গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট তৈরির সময় আজকের বাস্তবতা ছিল না। এ পরিস্থিতিতে আইনগুলো সংস্কারের আহ্বান জানান তারা।
সংলাপে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, ২০১৪ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পরও তিনি সন্তানের বাবার সিদ্ধান্ত মেনে চলেছেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মেয়ের গার্ডিয়ানশিপ পেয়েছেন তিনি।
- বিষয় :
- শিশু
- অভিভাবকত্ব