ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃষির রূপান্তরে পার্টনার প্রকল্প, অগ্রগতি ৪৭%

কৃষির রূপান্তরে পার্টনার  প্রকল্প, অগ্রগতি ৪৭%
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের কৃষিকে আধুনিক, বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পার্টনার প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ। কৃষককে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা, উত্তম কৃষিচর্চা, নিরাপদ খাদ্য, গবেষণা, কৃষিপণ্য রপ্তানি ও জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি বিস্তারে কাজ করছে প্রকল্পটি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ৬ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সাতটি সরকারি সংস্থা যুক্ত রয়েছে। দেশের ১৪টি কৃষি অঞ্চলের ৬৪ জেলা ও ৪৯৫ উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় ২৮ হাজার ৫৯৭টি মাঠ স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০টির কার্যক্রম চলছে। কৃষকদের উত্তম কৃষিচর্চা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ২০ হাজার ব্যাচের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে ৩০টি প্রশিক্ষণ ব্যাচের মধ্যে ২৭টি শেষ হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের ১১২টি কর্মশালার মধ্যে ৩১টি সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের অন্যতম বড় উদ্যোগ কৃষক কার্ড। চলতি আগস্টে ১০ লাখ এবং এ বছরের মধ্যে ৪৭ লাখ কৃষককে কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের তথ্যভান্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে। 

প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশ্বব্যাংক ও ইফাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভিত্তিতেই এ প্রকল্পের অগ্রগতি বিবেচনা করা হয়। সেই হিসাবে গত জুন পর্যন্ত প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি প্রায় ৪৭ শতাংশ।
আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, পার্টনার প্রকল্পের অর্থায়ন পদ্ধতি ফলাফলভিত্তিক। বাংলাদেশের কৃষি খাতে এ ধরনের অর্থায়ন পদ্ধতির প্রকল্প আগে বাস্তবায়িত হয়নি। উন্নয়ন সহযোগীদের নির্ধারিত ফলাফল অর্জনের প্রমাণ যাচাইয়ের পরই অর্থ ছাড় করা হয়। 

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ও ইফাদের ঋণ চুক্তির পরিমাণ ৫৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জীভূত ফলাফলের বিপরীতে ২৫২ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়ের জন্য দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ চুক্তির মোট অর্থের প্রায় ৪৭ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থের দাবি উত্থাপিত হয়েছে।
প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রকল্পে মোট ১০টি অর্থ ছাড়ের সংযোগ নির্দেশকের আওতায় ২৪টি ফলাফলভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জনের প্রমাণপত্র প্রকল্প থেকে দাখিল করা হয়। পরে একটি স্বাধীন যাচাইকারী সংস্থা তা যাচাই করে। যাচাই শেষে নির্ধারিত হারে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ছাড় হয়। তবে কিছু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করা প্রয়োজন। গত ১ থেকে ২৩ জুন বিশ্বব্যাংক ও ইফাদের যৌথ মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা মিশনে এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে ডিপিপি সংশোধনের পাশাপাশি কিছু লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। সংশোধন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। সংশোধন ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করলে পরবর্তী সময়ে অর্থ ছাড় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। ডিপিপি সংশোধন সম্পন্ন হলে প্রকল্পের অন্যান্য কার্যক্রমও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
 

আরও পড়ুন

×