জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একত্রে থাকতে হবে
ড. মাহ্দী আমিন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪২
রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশ, জনগণ ও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে এক জায়গায় থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেখানেই আবার ফিরে যেতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণ করতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ সব কথা বলেন তিনি।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে একটি বৃহত্তর ঐক্য তৈরি হয়েছিল। মানুষের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক স্বার্থে আমরা সবাই এক জায়গায় থাকব, আমরা ইনক্লুসিভ গণতন্ত্র চাই।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, গণতন্ত্রে সমালোচনা থাকবে, তবে সেই সমালোচনা অবশ্যই যৌক্তিক ও গঠনমূলক হতে হবে। কোনোভাবেই মিথ্যা প্রচারণা ও চরিত্রহনন উচিত নয়।
গোলটেবিলে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, বড় আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পথচলা শুরু করেছি। গত ৬ মাসে কতটুকু পূরণ করতে পেরেছি সেটি জনগণই দেখবে। আগে রাজনীতিতে প্রতিহিংসা ছিল, সেটি এখন পরিবর্তন করে আনতে পেরেছি। আমরা ১৮০ দিনের টাইমলাইন নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। বর্তমান সরকার দু’হাত বাড়িয়ে কাজ করছে। ভেঙে পড়া বাংলাদেশকে টেকসই দেশ হিসেবে গড়ার চেষ্টা করছে। গত ১৭ বছরে আমাদের অনেক অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এখন মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে গত ৬ মাসে গুম, নির্যাতনসহ রাজনৈতিক কোনো প্রতিহিংসা দেখা যায়নি। এটা সরকারের ভালো দিক। প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের মধ্যে সংস্কারের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে যেভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে সেটিকে মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না। বিএনপিকে এটি বুঝতে হবে। এখানে সরকারের সদিচ্ছা অতি গুরুত্বপূর্ণ।
ডেইলি স্টারের পরামর্শক সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের গণমাধ্যম রিফর্ম কমিশনের প্রধান সাংবাদিক কামাল আহমেদ বলেন, শুধু বিএনপি নয়, সবাইকে নিয়ে ভাবতে হবে। দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি বদলাতে হবে। দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কামাল আহমেদ অভিযোগ করেন, সরকারের সব জায়গায় দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে কোনো যোগ্য লোক দেখা যাচ্ছে না।
সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যম রিফর্ম কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেটি বাতিল করা ঠিক হয়নি। এটিকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা যেতে পারে। গণমাধ্যমে সংস্কার খুবই দরকার। দেশে কার্যকর গণতন্ত্র চাইলে শক্তিশালী গণমাধ্যম থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএএম সালেহ শিবলী বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। দেশে জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে আনতে হবে। আগে সংসদে গালিগালাজ করা হতো, এখন সেটি হচ্ছে না। আমাদের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্যে রাখেন জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, প্রফেসর নাহরিন খান, সাংবাদিক এহসান মাহমুদ প্রমুখ।
- বিষয় :
- রাজনীতি