খাদ্যজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে প্যাকেটে স্পষ্ট সতর্কবার্তার তাগিদ
‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল): প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালা। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৫৬
বাংলাদেশে শিশু-কিশোর, তরুণসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ। এ পরিস্থিতিতে খাদ্যের প্যাকেটের সামনের অংশে সহজে বোঝা যায় এমন সতর্কবার্তা বা ‘ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল)’ চালুর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর বিআইপি কনফারেন্স রুমে গত ২৪ ও ২৫ আগস্ট ‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল): প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার ২৬ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে ৭১ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব রোগের অন্যতম কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। মাত্রাতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত গ্রহণ এ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে খাদ্যের প্যাকেটের পেছনে ছোট অক্ষরে দেওয়া জটিল পুষ্টি তথ্য সাধারণ ভোক্তার পক্ষে বোঝা কঠিন। ফলে কোনো খাবারে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা ক্ষতিকর চর্বি রয়েছে কি না, তা সহজে জানা যায় না। এ কারণে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের মোড়কের সামনের অংশে স্পষ্ট ও সহজে বোধগম্য সতর্কবার্তা যুক্ত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ‘খসড়া প্রবিধানমালাটি বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সকল প্রক্রিয়া শেষে এটি দ্রুতই চূড়ান্ত হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এফওপিএল একটি বিজ্ঞানসম্মত উপায়। এটি ভোক্তাকে সহজেই অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি বুঝতে সাহায্য করবে।’
জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘অসংক্রামক রোগে মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এফওপিএল প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়ন জরুরি।’
চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় এফওপিএলের কার্যকারিতা তুলে ধরে গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা ও বিশ্লেষণ খসড়া প্রবিধানমালা চূড়ান্তকরণের পথ সুগম করবে।’
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মার কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।
এ ছাড়া প্রজ্ঞার কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার ও প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন।