ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক ও ডাকাতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধে খুন হন করিম: পুলিশ

দুই মোটরসাইকেলে পাঁচজন এসে করিমকে হত্যা, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দাবি নাকচ

মাদক ও ডাকাতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধে খুন হন করিম: পুলিশ
×

ছবি: সমকাল

প্রদীপ শীল, রাউজান (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৫২ | আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৫৩

চট্টগ্রামের রাউজানে আবদুল করিম নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, দুই মোটরসাইকেলে করে পাঁচজন এসে করিমের ওপর হামলা চালায়।

নিহত আবদুল করিমকে যুবদল-সমর্থক হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচয় দেওয়া হলেও পুলিশ ও উপজেলা যুবদল বলছে, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, কেরানীহাট বাজারের সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন করিম। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে পাঁচজন সেখানে আসে। তারা প্রথমে চাপাতি দিয়ে করিমকে কুপিয়ে আহত করে। পরে দুজন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছোড়ে। এরপর মোটরসাইকেলে করে এন্ডারসন সড়ক দিয়ে পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই বাজারের দিকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি; অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) বেলায়েত হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

মাদক ও ডাকাতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে খুন
পুলিশ জানায়, আবদুল করিম ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলাসহ ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকের ১০টি মামলা রয়েছে।

স্থানীয় একটি সূত্রের ভাষ্য, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই বাজার এলাকার আলোচিত ডাকাত পারভেজের অনুসারী ছিলেন করিম। তারা একসঙ্গে ইয়াবা ব্যবসা ও ডাকাতিতে জড়িত ছিলেন। একপর্যায়ে এসব কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পরে করিম আলাদা হয়ে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর পারভেজ ও করিমের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ে।

পুলিশের ধারণা, ওই বিরোধের জের ধরে করিমকে হত্যা করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাউজান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। 

যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি নাকচ
আবদুল করিমকে যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় পুলিশ ও স্থানীয় যুবদল নেতারা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, নিহত করিম কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক বা কর্মী ছিলেন- এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজাহান সাহিলও করিমের সঙ্গে দলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, করিমের দলের কোনো পদ-পদবি ছিল না। তাকে কখনো মিছিল-মিটিংয়েও দেখা যায়নি। স্থানীয়ভাবে করিমের ডাকাত দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা শুনেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

‘কারও সঙ্গে বিরোধের কথা শুনিনি’
নিহত করিমের স্ত্রী ও মামলার বাদী বিলকিস আক্তার বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল- এমন কথা শুনিনি। হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই। 

মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করার বিষয়ে বিলকিস আক্তার জানান, তিনি কাউকে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে দেখেননি। তাই কারও নাম উল্লেখ করে মামলা করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, পরে তাদের আসামি করা হবে।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে ইতিমধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন পক্ষের লোকজন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে কেরানীহাট এলাকায় আবদুল করিম হত্যার শিকার হন।

আরও পড়ুন

×