বাস্তুচ্যুতরা দেশে ফিরলে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি মিয়ানমারের
পালিয়ে আসার ৯ বছর উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে মিয়ানমারের পতাকা বহন করে এক রোহিঙ্গা তরুণ। গত মাসে কক্সবাজারে। ছবি: এএফপি
এএফপি
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৩৬ | আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৩৮
মিয়ানমারের সরকার জানিয়েছে, বিদেশে থাকা বাস্তুচ্যুত নাগরিকরা দেশে ফিরলে তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে। চলতি মাসের শেষ দিকে মালয়েশিয়া থেকে দেড় হাজার জনকে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের কথা। এর আগে নেপিডো এমন প্রতিশ্রুতি দিল। তবে এই দলে কতজন রোহিঙ্গা থাকবে তা স্পষ্ট নয়।
নিজ নাগরিকদের ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি দিলেও নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে অস্বীকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে মিয়ানমার। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের স্বতন্ত্র ঐতিহ্য থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের বংশধর।
মিয়ানমার সরকার ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করতেও বিভিন্ন সময় অস্বীকৃতি জানিয়েছে। চলতি মাসের প্রত্যাবাসন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার নেপিডোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বিদেশে বাস্তুচ্যুত হওয়া নিজ নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরা নিশ্চিত করা হবে।
২০১৭ সালে দমন-পীড়ন শুরুর পর রোহিঙ্গাদের একটি অংশ মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেয়। এ সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার। তাদের সঙ্গে মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুত নাগরিকরাও আছেন। গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়া জানায়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে নিতে নেপিডো সম্মত হয়েছে।
এই প্রত্যাবাসন নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। অধিকারকর্মীরা বলছেন, প্রত্যাবাসন পরিকল্পনাটির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ আবারও বিপদের মুখে পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যাচাই করা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশ ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গেও মিয়ানমার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হলেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস দমন-পীড়ন শুরু হওয়ার পর ২০১৭ সালে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা দেশটি থেকে পালিয়ে যায়। ওই দমন-পীড়নের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার মামলা চলছে।
- বিষয় :
- রোহিঙ্গা
- প্রত্যাবাসন রূপরেখা
- মালয়েশিয়া
- মিয়ানমার