ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচন পিছিয়ে নভেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা ইসির

স্থানীয় নির্বাচন পিছিয়ে নভেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা ইসির
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:২৬

আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একমাস পিছিয়ে নভেম্বরে এই নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে এর আগে অক্টোবরের শেষভাগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবছে সংস্থাটি। 

ইসি সূত্র বলছে, মূলত উপনির্বাচন আয়োজনের কারণেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন একমাস পেছানোর এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরে উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে। আইন অনুযায়ী- ভোটের ৪৫দিন আগে তপশিল ঘোষণা করতে হয়।   

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, কোনো আসন শূন্য ঘোষণা করা হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। এটা আইনের বাধ্যবাধকতা। ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি এরই মধ্যে শূন্য হয়েছে। এই কারণে অক্টোবরের শেষে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ইসি। 

তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসি আগে অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা করে এসেছে। এখনো সব প্রস্তুতি অক্টোবরের মধ্যেই শেষ করা হবে। কিন্তু ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা এখন নভেম্বর করা হচ্ছে।  

আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা সবসময়ই বলে আসছি, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি- এগুলো নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে সহায়ক মাস। এই মাসগুলোর মধ্যে এপ্রিলও ধরা যেতে পারে। এখন এর মধ্যে দুর্গাপূজা, রমজান কিংবা পরীক্ষা বা বার্ষিক পরীক্ষা আছে কি না অথবা বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা- এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা করছি।

তিনি বলেন, তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল নিয়ে ইসিতে কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা কেবল ভোটের সহায়ক সময় নিয়ে আলোচনা করেছি। আইন অনুযায়ী- যেদিন ভোট গ্রহণ করা হবে, তার ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করতে হয়। তার মানে, নভেম্বরে যদি ভোট হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে।

কোন প্রতিষ্ঠান দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চান জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার  বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে শুরু করব। একসঙ্গে পৌরসভাও করতে পারি। এরপর উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

আইন মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিমালা চূড়ান্ত হয়ে এসেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আচরণবিধি এসে পড়েছে। তবে আমরা নির্বাচনের বিধিমালার সুপারিশগুলো এখনো পাঠাইনি। আমরা আইনে আরও কিছু পরিবর্তন আনার চিন্তা করছি। এ কারণে এখনো পাঠাইনি।

এর আগে গত ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হন। ওই দিনই নির্বাচন কমিশন তাঁকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। পরদিন ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি। পরদিন সংসদ সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রপতির সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনে ফাইল দেওয়া হয়। 

দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব: ইসি সানাউল্লাহ 
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে দ্য অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি নামের পর্যবেক্ষক সংস্থা আয়োজিত সংলাপে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হয়েছে। এর মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সম্ভব। কাজেই সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও রাজনৈতিক দলগুলোর সেই সদিচ্ছা কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন একটি অনন্য নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্থানীয় নির্বাচনেও ভায়োলেন্স চায় না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি থাকায় এ বিষয়ে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে। এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার দায়িত্ব কমিশনের। তবে শুধু মনোনয়ন পেলেই কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হবেন না। নির্বাচন হবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন।

সানাউল্লাহ বলেন, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদেরও নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা থাকবে কমিশনের।

নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর। নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা রাখতে হবে। নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইন প্রণয়নের এখতিয়ার সংসদের। সংসদ যে আইন করবে, নির্বাচন কমিশন সেটি বাস্তবায়ন করবে। রাজনৈতিক দলগুলো কী নিয়ম মেনে নির্বাচনে অংশ নেবে, তা আইনে আছে। কোনো রাজনৈতিক দল সেই নিয়ম না মানলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বাদ পড়তে পারে।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, সামনের নির্বাচনগুলো নির্ভুলভাবে করতে ইসির অ্যাকশন প্ল্যান থাকা জরুরি। নির্বাচনে ফান্ডিং এর ক্ষেত্রে দেশের ভেতর থেকে কীভাবে ফান্ড সংগ্রহ করা যায় তা লক্ষ্য রাখতে হবে।

সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ভালো থাকলেও কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার নিরপেক্ষ ছিলো না। ভোট গণনায় অস্বচ্ছতা, অনিরপেক্ষতা ছিল। ভোট গণনায় অনেক দেরি হয়েছে। এসব কারণে জামায়াত অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসি কিভাবে ভালো করবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে।

সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে দেশের বাইরে পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ ছিলো না।

ডায়লগে বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সংস্থাটি জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করে জানায়, জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্য নির্বাচনের চেয়ে ভালো ছিল। তবে নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ কম ছিল।

আরও পড়ুন

×