শিল্পকলায় রং-রেখা-কল্পনার সাধক মুস্তাফা মনোয়ারকে স্মরণ
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৩২ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৩৬
বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ স্মরণোৎসব। নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও পাপেট পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির এই অনন্য সাধককে।
গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এ স্মরণোৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মাল্টিমিডিয়া পাপেট থিয়েটার।
মুস্তাফা মনোয়ারের বর্ণাঢ্য জীবন, শিল্পসাধনা, সৃজনশীলতা এবং বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে তাঁর অনন্য অবদান উঠে আসে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে। শিল্পীর সৃষ্টিশীল জীবনের নানা দিক নৃত্য, সংগীত ও পাপেট পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নতুন করে উপস্থাপন করা হয়। স্মরণোৎসবে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গত ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে সনদ ও উপহার তুলে দেন মাল্টিমিডিয়া পাপেট থিয়েটারের সভাপতি এবং মুস্তাফা মনোয়ারের স্ত্রী মেরি মনোয়ার।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ‘ক’ বিভাগে (৪-১০ বছর) প্রথম স্থান অর্জন করে শিহাব আবরার, দ্বিতীয় সৈয়দ মুঃ আননুর হায়দার এবং তৃতীয় স্থান পায় সম্প্রীতা রায়। বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে ওয়াজিহা জেহরা। ‘খ’ বিভাগে (১১-১৪ বছর) প্রথম হয়েছে প্রত্যয় পাল রাজ, দ্বিতীয় মো. মেহেসান ফারজাদ হোসেন এবং তৃতীয় প্রকৃতি চৌধুরী। বিশেষ সম্মাননা পেয়েছে আরাফাত ইসলাম।
মঞ্চে শিশুদের সঙ্গে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। স্মরণোৎসবে শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে স্মরণ করে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক মাহবুবুল আলম। তিনি মুস্তাফা মনোয়ারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্বর্ণযুগে তাদের কাজের স্মৃতিচারণ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রবাসী শিল্পী মনিরুল ইসলাম। সংগীত পরিবেশন করেন মুস্তাফা মনোয়ারের অনুরাগী শিল্পীদের দল। নৃত্য পরিবেশন করে নৃতাঞ্চল। আবৃত্তি করেন নিমা রহমান। পরে উপমায়া নাচের দল নৃত্য পরিবেশন করে। এরপর দুটি পাপেট শো পরিবেশিত হয়।
রং, রেখা, কল্পনা ও নান্দনিকতার আজীবন সাধক ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর জীবন ও কর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ স্মরণোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।পুরো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন মাল্টিমিডিয়া পাপেট থিয়েটারের সদস্য ও গল্পকথক তামান্না তিথি।
মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহে জন্মগ্রহণ করেন। চিত্রকলার পাশাপাশি শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর ছিল দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
চলতি বছরের ২৯ জুন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠান। শিল্পীর ৯১তম জন্মবার্ষিকীর এ আয়োজন শুধু তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তাঁর শিল্প-দর্শন, সৃষ্টিশীলতা ও সাংস্কৃতিক অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরারও এক আবেগঘন প্রয়াস হয়ে ওঠে।
- বিষয় :
- শিল্পকলা একাডেমি
- মঞ্চ নাটক