ইসির সঙ্গে বৈঠক
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল চায় জামায়াত
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৩১ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৩৪
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, রহস্যজনক কারণে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এটা সংবিধানে বর্ণিত নাগরিকদের সমতা এবং বৈষম্যহীনতার অধিকারের পরিপন্থী। একজন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েও সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করতে পারবেন, কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না— এটা হতে পারে না। এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে দলটির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসির সঙ্গে দেখা করে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়াসহ নয় দফা লিখিত দাবি তুলে ধরা হয়। বৈঠকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য যে তফসিল ঘোষণা হতে যাচ্ছে বলে আমরা ধারণা করছি, তার পরিপ্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট নয়টি দাবি আমরা আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে হস্তান্তর করে গেলাম। সেগুলো নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এর কিছু দাবি আগেও আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিলাম। সেগুলো নিয়ে তারা কতটা চিন্তাভাবনা করছেন, সেটা নিয়েও আমরা আজ আলোচনা-পর্যালোচনা করেছি, জানার ও বোঝার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক যারা বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত, তাদের সংখ্যা হবে আনুমানিক ৩০ হাজারের বেশি। সুদীর্ঘকাল থেকে বাংলাদেশের সব নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারেন। রাজনীতি করতে পারেন, ভোট দিতে পারেন। সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমপিওভুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। অথচ নির্বাচন কমিশন তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য বলে সুপারিশ করেছে। বিগত দিনেও আমরা এটার প্রচণ্ড আপত্তি করেছি। এই সুপারিশ আমরা বাতিল করতে বলেছি। এটা বাতিল করতে হবে। কেননা, এতে সরাসরি আইন ও সংবিধানের লঙ্ঘন এবং বৈষম্য করা হচ্ছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ রাখার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এটা পাবলিক পারসেপশন। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দলের পদ-পদবি ধারণ করছেন, এমন কোনো ব্যক্তির এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত নয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলম, যিনি বিএনপির নির্বাচনবিষয়ক একটি উপকমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছি আমরা। সরকারি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে একটি রাজনৈতিক নিয়োগ সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী ও আইনের লঙ্ঘন। তবে নির্বাচন কমিশন বলেছে, সরকারকে এ মতামত জানাবে তারা। যেহেতু সরকার এই নিয়োগের কর্তৃপক্ষ।’
এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধ রাখার দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘‘এই নির্বাচন পর্যন্ত যে সময়টা পাবেন, তাতে তারা সরকারের অর্থ বরাদ্দ, এডিপি, রাস্তাঘাটসহ যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজ দিয়ে নির্বাচনী মাঠ তৈরি করবেন। তফসিল ঘোষণার পর তিনি সেখানে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমরা বলেছি, এসব জায়গায় যারা প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন, তাদের নির্বাচনে অযোগ্য করতে হবে। এমনকি তফসিল ঘোষণার পর তারা প্রশাসক পদ থেকে পদত্যাগ করলেও নির্বাচনে অযোগ্য থাকবেন। আমরা কমিশনকে আরও বলেছি, মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যেন স্থানীয় নির্বাচনের কোনো প্রচারে অংশগ্রহণ করতে না পারেন। আগের আচরণবিধিতে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিবিধান ছিল না। সেটা আমরা তাদের বলেছি। তারা কথা দিয়েছেন এগুলো বিবেচনা করছেন। তারা বলেছেন, ‘আচরণবিধিতে এটা আমরা রাখব’।’’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘জামায়াতের নয় দফার কিছু কিছু দফা নির্বাচন কমিশন বিবেচনায় নিচ্ছে, একমত হয়েছে। কিছু কিছু বিষয়ে তারা বলেছে, এটা সরকারের করণীয়। ‘আমরা পরামর্শ দিতে পারি, আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না’— এমন অসহায়ত্বের কথাও তারা বলেছেন।’’
তিনি বলেন, দাবি না মানলে স্থানীয় নির্বাচন বর্জনের কোনো কথা বলার মতো সময় এখনো আসেনি। সেই পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে আমরা মনে করি। আমরা নির্বাচন কমিশনের ওপর এখনো আস্থাশীল। তবে এটুকু বলতে আমাদের দ্বিধা নেই যে ক্ষমতায় যেহেতু দলীয় সরকার, তাদের যে একটা চাপ কমিশনের ওপর আছে, সেটা কমিশনের কথা শুনলে বোঝা যায়। কোথাও একটা অসহায়ত্ব তাদের মধ্যে আছে। সব কথা যেন তারা মন খুলে বলতে পারেন না।
গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা হতাশ নই। আমরা মনে করি, আমাদের এই দাবি মানা হবে। মানতে হবে। তা না হলে এই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। এই নির্বাচন দলীয় হিসেবে পক্ষপাতিত্বের মধ্যে পড়ে যাবে।
তফসিল ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর প্রার্থীরা যার যার মতো করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান জামায়াতের এই নেতা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দলটির নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও নির্বাচন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি, নির্বাচন কমিটির সেক্রেটারি ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন এমপি, দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, নির্বাচন কমিটির সদস্য আব্দুর রব ও ইয়াসির আরাফাত।