ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৩৬

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল আনা হবে বলে জানান তিনি।

রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুতগতিতে এগোতে চাই। প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠকের আয়োজন করা হবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আমরা আলাপ-আলোচনা শেষ করে রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত করতে পারব বলে আশা করছি। এরপর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আসবে।’

বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল প্রতিনিধি নিয়ে সরাসরি অংশ নিয়েছে। এবি পার্টি লিখিত বক্তব্য দিয়েছে। জাতীয় গণফ্রন্টের নেতারা পারিবারিক অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে অংশ নিতে না পারলেও টেলিফোনে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এখনও কমিটিতে অংশ নেয়নি।

সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, বিচার, জনপ্রশাসন ও পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কারে তাঁরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এর মধ্যে বাজেট বা অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়টিও রয়েছে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প সুচারুরূপে সম্পন্ন করা এবং অপচয় রোধে সরকার জুলাই-জুনের পরিবর্তে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১০০ সদস্য নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে অনেক দল একমত। এটি সরাসরি জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে না। সংসদে প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনদের নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। তবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা উচ্চকক্ষের থাকবে না।

জুলাই জাতীয় সনদে কিছু দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট ছিল, সেগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট নেওয়া হয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সংস্কার চায় না—মাঠে এমন অপপ্রচার চলছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অসত্য। জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, আমরা অক্ষরে অক্ষরে সেভাবেই বাস্তবায়ন করব।’

সংবিধানের প্রস্তাবিত সংশোধনী ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে না হলে আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে বা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা যাবে না—এমন ধারণা ঠিক নয়। সংবিধান কোনো সর্বকালের জন্য অপরিবর্তনীয় গ্রন্থ নয়; সমাজের চাহিদা অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হয়।

তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করে এবং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে জনচাহিদা অনুযায়ী সংবিধানের যেকোনো বিধান পরিবর্তন করতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশে শতাধিকবার সংবিধান সংশোধন হয়েছে।

বিরোধী দলগুলো বর্তমানে সংসদে না থাকলেও সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে এলে তারা এতে অংশ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন

×