টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ
মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি, নিরপেক্ষ তদন্ত চান নারী
রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন রানু বেগম। ছবি-সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:১৭
টাঙ্গাইল সদর থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে ৫০০ পিস ইয়াবা দিয়ে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সদর উপজেলার কান্দাপাড়া এলাকার বাসিন্দা রানু বেগম। রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রানুর অভিযোগ, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁর বাসার মালিকের বাড়িতে যান। ওই বাড়িতে প্রায় ১৪ জন ভাড়াটিয়া বসবাস করেন। এ সময় পুলিশের এক সদস্য বাড়ির বাথরুমে ইয়াবা পাওয়ার দাবি করেন। তবে তাঁর স্বামী বাবলু খানের কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
রানু দাবি করেন, থানায় নেওয়ার পর তাঁর স্বামীর কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ৫০০ পিস ইয়াবা দিয়ে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জী, এসআই রাফিউল করিম, এসআই আমান উল্লাহ ও এএসআই বিপুলসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন রানু।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, থানার জিডি, ডিউটি রোস্টার, আটক ও জব্দসংক্রান্ত নথি পরীক্ষা এবং বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের বক্তব্য নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশ ও অর্থ লেনদেনের যেসব অভিযোগ করেছেন, সেগুলোও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান।
তবে রানুর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জী। তিনি সমকালকে বলেন, রানু বেগম ও তাঁর স্বামী বাবলু খান এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
রানু বলেন, তাঁর স্বামী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার হোক। তবে তিনি নির্দোষ হলে তাঁকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়ে থাকলে তারও বিচার করতে হবে। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি বিচার চাই না, নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। তদন্তেই সত্য বেরিয়ে আসবে।’
- বিষয় :
- পুলিশ