বিসিএস ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এলজিইডি
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আজ
দেলওয়ার হোসেন
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এলজিইডি) বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পেশাগত ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে এলজিইডির প্রকৌশলীদের নিয়ে পৃথক ‘বিসিএস (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল) ক্যাডার’ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আজ রোববার বিকেলে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ সভা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি) মোস্তফা জামান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। সভায় এলজিইডিকে ক্যাডারভুক্ত করার যৌক্তিকতা, বিদ্যমান জনবল কাঠামো, আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক কাঠামোসহ বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে। প্রায় দুই দশক ধরে ঝুলে থাকা এলজিইডির প্রকৌশলীদের ক্যাডারভুক্তির প্রস্তাব নিয়ে এটিই নতুন করে আনুষ্ঠানিক আলোচনা।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে অধিদপ্তরটিকে পৃথক বিসিএস প্রকৌশল ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়। ২০০৬ সালে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে সম্মতি দেয়। পরে প্রস্তাবটি বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুরলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে নন-ক্যাডার প্রতিষ্ঠান হিসেবেই কাজ করছে এলজিইডি। সম্প্রতি বিষয়টি আবার সামনে আসে।
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন গত ১৯ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগে পৃথক ক্যাডার গঠনের প্রস্তাব পাঠান। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রস্তাবটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আজকের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা।
এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীদের দায়িত্ব ও কাজের ধরন গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথ এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীদের মতো এলজিইডির প্রকৌশলীদের পৃথক ক্যাডার কাঠামো নেই।
মেধাবী প্রকৌশলী ধরে রাখায় সংকট
ক্যাডারভুক্তির পক্ষে এলজিইডির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এলজিইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, হাটবাজারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারিগরি সহায়তাও দিচ্ছে সংস্থাটি। তবে নন-ক্যাডার প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মেধাবী প্রকৌশলীদের আকৃষ্ট করা এবং দক্ষ জনবল ধরে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত নিয়োগ, পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়নেও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে এসব সীমাবদ্ধতা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে এলজিইডি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন এবং শৃঙ্খলা ও তদন্ত ইউনিট) আবদুল বারেক হাওলাদার সমকালকে বলেন, গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথ এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ক্যাডারের সঙ্গে এলজিইডির কাজের যথেষ্ট মিল রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগে জনবলও অনেক বেশি। ২০০৫ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এলজিইডির কর্মকর্তাদের ক্যাডার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আবারও বিষয়টি নিয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আজ প্রথম আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডেকেছে।
এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী থেকে প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৬০০ পদ রয়েছে। পৃথক ক্যাডার গঠন হলে এসব পদকে ক্যাডার কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক দায় তৈরি হবে কিনা– এ বিষয়টিও প্রস্তাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এলজিইডির দাবি, বিদ্যমান জনবল কাঠামো ও দায়িত্বের মধ্যেই ক্যাডার কাঠামো বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ফলে এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক সংস্থানের প্রয়োজন হবে না। এলজিইডি আরও জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ বিবেচনায় ক্যাডারভুক্ত অন্যান্য প্রকৌশল সংস্থার তুলনায় তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিধি উল্লেখযোগ্য। এ অবস্থায় প্রকৌশলীদের জন্য পৃথক বিসিএস ক্যাডার গঠনের প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্যাডার বাড়বে, নাকি পুনর্বিন্যাস
এলজিইডির দাবির বিষয়ে সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার সমকালকে বলেন, দাবিটি একেবারে অযৌক্তিক নয়। সরকার চাইলে এলজিইডির প্রকৌশলীদের ক্যাডারভুক্ত করতে পারে। তবে বর্তমানে ক্যাডারের সংখ্যা কমিয়ে আনার উদ্যোগও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সরকার নতুন করে ক্যাডারের সংখ্যা বাড়াবে কিনা, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এলজিইডির প্রকৌশলীদের শিক্ষা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব ও কাজের পরিধি বিবেচনায় পৃথক ক্যাডার কাঠামো প্রয়োজন। ক্যাডারভুক্ত করা হলে অন্যান্য প্রকৌশল ক্যাডারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহও বাড়বে। এ ছাড়া এলজিইডি দেশের বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা হলেও এর প্রকৌশলীরা এখনও বিসিএস ক্যাডারের বাইরে। অথচ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দ বিশ্লেষণ করে অধিদপ্তরটি দাবি করেছে, ক্যাডারভুক্ত অন্যান্য প্রকৌশল সংস্থার তুলনায় এলজিইডির উন্নয়ন বরাদ্দও বেশি।
- বিষয় :
- বিসিএস