ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সংস্কার সীমিত পরিসরে সেবা

ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সংস্কার সীমিত পরিসরে সেবা
×
×

মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে গতকাল মঙ্গলবার নির্মাণকাজ করে শ্রমিকরা সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভাঙা দেয়াল, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইটপাথর, ক্ষতিগ্রস্ত আসবাব। কোথাও চলছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ, কোথাও নতুন করে দেয়াল তোলা হচ্ছে। চার দিন আগে তাণ্ডব চালানো রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের চিত্র এখন এমনই।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত সেন্টারটির সংস্কারকাজ চলছে। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পেছনের অংশে দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। তবে ভবনের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুরের চিহ্ন এখনও স্পষ্ট। নিরাপত্তার জন্য সেন্টারে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পুরো সেন্টার এখনও ব্যবহার উপযোগী না হওয়ায় স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করা যায়নি। একটি কক্ষ পরিষ্কার করে সেখানে সীমিত পরিসরে টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সংস্কারকাজে যুক্ত ব্যক্তিরা সমকালকে জানান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্দেশের পর সেন্টারটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু হয়। ভাঙা সামগ্রী সরিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হচ্ছে। 
সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, পানির সংযোগ এখনও চালু হয়নি। শৌচাগারও পুরোপুরি মেরামত করা যায়নি। বিদ্যুৎ ও ফ্যানের ব্যবস্থা করা হলেও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা পুরোপুরি সচল না হওয়ায় বিস্তৃত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে সেন্টারের বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
মঙ্গলবার সেবা নিতে আসা কয়েকজন বলেন, গত চার দিন সেন্টারে নানা মানুষের আনাগোনায় তাদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। 
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ভাঙা সেন্টারটি দ্রুত সংস্কার করে রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। পানি, বিদ্যুৎ ও শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধাগুলো পুরোপুরি চালু করা প্রয়োজন।
দুপুরে সেন্টারটি পরিদর্শন শেষে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু বলেন, ‘আমরা যে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের সময়ে আছি, সেখানে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আমাদের এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।’
গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে যারা দায়ী, তারা যে দল-মতেরই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’

গ্রেপ্তার ১২ জন কারাগারে
রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শাহ আলী থানায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা কারাগারে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া আসবাব, টিকা, নথিপত্র, ফ্রিজ, প্রিন্টার, জেনারেটরসহ বিভিন্ন মালপত্র ও দুটি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে শাহ আলী থানার ওসি মো. রাজীব সমকালকে বলেন, তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িত যাদেরই পাওয়া যাবে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

আরও পড়ুন

×