ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কাতারের সঙ্গে নতুন এলএনজি চুক্তির উদ্যোগ, সৌদির সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

কাতারের সঙ্গে নতুন এলএনজি চুক্তির উদ্যোগ, সৌদির সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
×
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৩১

গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কাতারের সঙ্গে নতুন দীর্ঘমেয়াদী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি কোম্পানি অ্যাকওয়া পাওয়ার।

গত রোববার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ১৭তম আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের (আইইএফ) সম্মেলনের ফাঁকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে তিনটি বৈঠক করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ শেরিদা আল-কাবিরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং এলএনজি আমদানি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কাতারের সঙ্গে নতুন দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ।

বৈঠকে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ এবং পরিবহনপথে বৈচিত্র্য আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক ও কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন উভয় পক্ষ।

কাতারের সঙ্গে পেট্রোবাংলার দুটি দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে। তবে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে চলতি বছর দেশটি থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৈঠকে ২০৩০ সালের জ্বালানি খাতের লক্ষ্য অর্জন, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এসব বিষয়ে অগ্রসর হতে দুই দেশের প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং একটি সমঝোতা কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সৌদি সহকারী মন্ত্রী বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে সৌদি আরবের কাছে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আশাবাদ জানান তিনি।

বৈঠকে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের জন্য শোক প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। হামলার নিন্দা জানিয়ে সৌদি সরকার ও জনগণের পাশে থাকার কথা বলেন তিনি। এ সময় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঠানো শোকবার্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন। হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।

অন্যদিকে, অ্যাকওয়া পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামির জে সেরহানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে কোম্পানিটি।

বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে অ্যাকওয়া পাওয়ারের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে এক হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

তিনটি বৈঠকেই বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×