ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন

৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, আহত ৬৪৭৩

৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, আহত ৬৪৭৩
×
×

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:১৭ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:১৮

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে সারাদেশে ১০১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৭৩ জন নিহত এবং ৬৪৭৩ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এ সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন। কারাগারে মারা গেছেন ৯৫ বন্দী। এ ছাড়া ২৪০৪ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার এবং ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। দেশের ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ, সংগঠনটির সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলের ৩৪২টি ঘটনায় ২৬৩২ জন আহত ও ৪০ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ৩২১টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ২১৯০ জন, নিহত ১১ জন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের ৯৩টি সংঘর্ষে আহত ৫৪৫ ও নিহত ৯ জন। বিএনপি-এনসিপির ৪৭টি সংঘর্ষে আহত ৩২০ জন। আওয়ামী লীগ-এনসিপির পাঁচটি সংঘর্ষে আহত ৫৮ জন। আওয়ামী লীগ-জামায়াতের দুটি সংঘর্ষে আহত তিনজন ও নিহত একজন। আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দলের একটি ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-অন্যান্য দলের ১২৮টি সংঘর্ষে আহত ৩২০ জন। অন্যান্য ছোট-বড় দলের মধ্যে ৭৪টি ঘটনায় আহত ৪০৫ ও নিহত হয়েছেন ১১ জন। মোট রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১ শতাংশ, অর্থাৎ ৯৩১টি ঘটনা ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দল এবং বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য দলের সংঘর্ষে।

নিহতদের মধ্যে বিএনপির ৪৬ জন, জামায়াতের আটজন, আওয়ামী লীগের ছয়জন, চরমপন্থী একজন এবং সাধারণ নারীসহ অন্যান্য দল বা রাজনৈতিক পরিচয় অজানা ১২ জন রয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থিতা, সমাবেশ, প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এসব সহিংসতা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দুর্বৃত্তদের অন্তত ৮৮টি হামলায় কমপক্ষে ১০০ জন আহত এবং বিএনপির ৩০ জন, আওয়ামী লীগের ১১ জন, জামায়াতের পাঁচজন ও অন্যান্য দলের ছয়জনসহ মোট ৫২ জন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৫০ জনের বেশি রাজনৈতিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার, দখলদারিত্ব, নির্বাচন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সহস্রাধিক বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় ২৬২৩ জন আহত ও ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ১২৩টি ঘটনায় আহত ৯৪১ ও নিহত আটজন; বিএনপি-জামায়াতের ২৩৪টি সংঘর্ষে আহত ১৪৩৮ ও নিহত চারজন; বিএনপি-আওয়ামী লীগের তিনটি সংঘর্ষে আহত তিনজন ও নিহত একজন; বিএনপি-এনসিপির ১৬টি সংঘর্ষে আহত ১৪১ জন এবং বিএনপি-অন্যান্য দলের ১৭টি ঘটনায় আহত ৬৩ জন। অন্যান্য দলের মধ্যে ১০টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৮ জন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির নয়জন, জামায়াতের দুজন, আওয়ামী লীগের একজন এবং রাজনৈতিক পরিচয় অজানা একজন রয়েছেন।

রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭০টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৫৮০৯ জনের নাম উল্লেখ এবং ৩২৪৩৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন বিভিন্ন দলের ৫৬৪৪ নেতা-কর্মী। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪৮২৭, বিএনপির ৬০৯, জামায়াতের ১৪৫, এনসিপির ৪৩ ও চরমপন্থী ৩৭ জন। পাশাপাশি সন্ত্রাস, নাশকতা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানে ৬৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মব সহিংসতা ও গণপিটুনি

চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাক্‌বিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টাসহ নানা অভিযোগে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত এবং ৪০১ জন আহত হয়েছেন।
সাংবাদিক নির্যাতন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: নয় মাসে ২৮৮টি ঘটনায় ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৯৭ জন, লাঞ্ছিত ৮৭ জন এবং হুমকির মুখে পড়েছেন ৭৭ জন। আটক করা হয়েছে ২০ সাংবাদিককে। সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬-এর অধীনে ৫১ সাংবাদিককে আসামি করে ১৯টি মামলা হয়েছে।

এ সময়ে ৫৮টি সভা-সমাবেশ আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাধা দিয়েছে। এতে ৪৩৯ জন আহত ও ৪৬ জন আটক হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ পথচারী রয়েছেন। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ ও সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় পৃথক ৪০টি মামলায় ১১৩ জনকে অভিযুক্ত এবং ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় আটক হয়েছেন ১২ জন।

অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তি, চলমান রাজনৈতিক ইস্যু, জুলাই ইস্যু, মাদক, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, মানহানিকর কনটেন্ট ও কটূক্তির সমালোচনাকে কেন্দ্র করে চারজন নিহত, চারজন নির্যাতনের শিকার এবং ২১ জন আটক হয়েছেন। এ-সংক্রান্ত ২০টি মামলা হয়েছে এবং ১২ জনকে চাকরিচ্যুত বা সমজাতীয় শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও কোরআন অবমাননার অভিযোগে ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ২৪টি মামলা হয়েছে এবং দুজন মারধরের শিকার হয়েছেন। সাইবার বুলিং, ফেসবুকে সমালোচনা ও কটূক্তিসহ অন্যান্য ঘটনায় আরও ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

হেফাজত ও কারাগারে মৃত্যু

নয় মাসে কারাগারে ৯৫ বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০ জন কয়েদি ও ৫৫ জন হাজতি। মৃতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ২০ জন, বিএনপির একজন এবং সাধারণ বন্দী হিসেবে ৭৪ জনের পরিচয় নথিভুক্ত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হেফাজতে ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ১২ জন, গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন এবং বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার এড়াতে পালানোর সময় বহুতল ভবন থেকে পড়ে ও পানিতে ডুবে বিভিন্ন কারণে অন্তত ১০ জন মারা গেছেন। পুলিশ অটোরিকশা জব্দ করায় মানসিকভাবে অসুস্থ এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যুর ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গুম ও জোরপূর্বক তুলে নেওয়া

এ সময়ে অন্তত একটি গুম ও একটি জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে এইচআরএসএস। গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাগেরহাটের মোংলায় কোস্ট গার্ড পরিচয়ে মিরাজ শেখ (৩২) নামে এক যুবককে গুমের অভিযোগ রয়েছে। গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর থেকে শামীম খান নামে এক ব্যবসায়ীকে সাদা পোশাকে তুলে নেওয়ার দুই দিন পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আটক দেখানোর তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।

সংখ্যালঘু নির্যাতন 

নয় মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলায় ৬২ জন আহত হয়েছেন। ২১টি মন্দির, ২০টি প্রতিমা ও ৪৭টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। জমি দখলের চারটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একজন নারী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া মরদেহ

নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যাকাণ্ডের ৪৬৫টি ঘটনায় ৪৯১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বস্তাবন্দি ৪৬টি, ঝুলন্ত অবস্থায় ৮৭টি এবং শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্নসহ ৭৪টি মরদেহ পাওয়া গেছে। গলা কাটা অবস্থায় ৩৫টি এবং হাত-পা বাঁধা ৩১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আরও ২১৮টি মরদেহ পাওয়া গেছে।

সীমান্তে হতাহত

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৪৩টি হামলার ঘটনায় বিএসএফের হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বিভিন্ন সীমান্ত থেকে আটক হয়েছেন ৪৪ জন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২৪টি সহিংসতার ঘটনায় একজন নিহত, ছয়জন আহত, ছয়জন গুলিবিদ্ধ এবং ৮৩ জন আটক হয়েছেন। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে আটজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

শ্রমিক নির্যাতন

নয় মাসে ৫৮২টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত ও ১২৬৩ জন আহত হয়েছেন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সুরক্ষাসামগ্রীর অভাবে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৩৯০ শ্রমিক মারা গেছেন। বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলনের সময় ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া তিন গৃহপরিচারিকা নিহত, সাতজন নির্যাতনের শিকার এবং পাঁচজনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছয়জন ছাড়া নিহত ও নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকাদের সবাই শিশু ও কিশোরী।

নারী ও শিশু নির্যাতন

প্রতিবেদনে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের নয় মাসে ২৪০৪ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৬৫৭ জন ধর্ষণের শিকার, যাঁদের ৩৯২ জন বা ৬০ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। ১৩০ জন বা ২০ শতাংশ দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৯ জনকে এবং ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন দুজন। যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৬৯৬ জন নারী ও কন্যাশিশু, যাঁদের মধ্যে ২৭৬ জন বা ৪০ শতাংশ শিশু।

যৌতুকের জন্য নির্যাতনে ৩২ নারী নিহত, ৩৫ জন আহত এবং পাঁচজন আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৪৫৭ জন নারী, আহত ২৭৯ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ২১৯ জন। এ ছাড়া অ্যাসিড সহিংসতায় পাঁচজন নারী আহত হয়েছেন। এ সময়ে ১৮১০ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৪৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং ১৩১৬ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা ও গণপিটুনি, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতা, হেফাজতে ও কারাগারে মৃত্যু এবং গুম ও জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

তিনি মানবাধিকার রক্ষায় সরকারকে আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকেও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানায় এইচআরএসএস।

আরও পড়ুন

×