৯ মাসে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে নিহত ৪০, আহত ২৬৩২ জন: এইচআরএসএস
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৪০
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সারাদেশে রাজনেতিক সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬ হাজার ৪৭৩ জন নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
দেশের ১৬ টি জাতীয় দৈনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সহিংসতার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০১৩ টি সহিংসতার ঘটনার ৯৩১টি ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ও বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে। এর মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৩৪২টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৬৩২ জন ও নিহত ৪০ জন। ৩২১ টি বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২ হাজার ১৯০ জন ও নিহত ১১ জন, ৯৩ টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৫৪৫ জন এবং নিহত হয়েছেন ৯ জন।
নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিহত ৭৩ জনের মধ্যে বিএনপির ৪৬ জন, জামায়াতের ৮ জন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ৬ জন, চরমপন্থি ১ জন এবং ১ জন সাধারণ নারীসহ অন্যান্য দল বা রাজনৈতিক পরিচয় অজানা ১২ জন।
এতে বলা হয়, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ও বিভিন্ন দলের সমাবেশ কেন্দ্রিক সহিংসতা, হামলা, বাড়ি-ঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় ২ হাজার ৬২৩ জন আহত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন ১৩ জন।
রাজনৈতিক নেতাকর্মী আটক ও মামলার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, উল্লেখিত এ সময়ে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে ২৭০টির অধিক মামলা হয়েছে। এ সকল মামলায় ৫ হাজার ৮০৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩২ হাজার ৪৩৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাস, নাশকতা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযানে ৬৩ সহস্রাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময়ে সারাদেশ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণসহ নানা অভিযোগে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৩৯৮ টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৪০১ জন। গত নয় মাসে ২৮৮টি ঘটনায় ৫১৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সকল ঘটনায় ২০ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।
সভা সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ মাসে ৫৮টি সভা ও সমাবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ৪৩৯ জন আহত ও ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময়ে কারাগারে ৯৫ জন আসামির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন কয়েদী ও ৫৫ জন হাজতি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ এবং কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’-এর ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ৫৬টি হামলার ঘটনায় ৬২ জন আহত হয়েছেন, এবং ২১টি মন্দির, ২০টি প্রতিমা ও ৪৭টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
গত ৯ মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৪৩টি হামলার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হামলায় নিহত ১৩ জন ও আহত হয়েছেন ৩৯ জন। অপরদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২৪টি সহিংসতার ঘটনায় ১ জন নিহত, ৬ জন আহত, ৬ জন গুলিবিদ্ধ এবং ৮৩ জনকে আটক করা হয়েছে। ৫৮২টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১২৬৩ জন। এই সময়ে ২ হাজার ৪০৪ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচনি সহিংসতা, মব ও গণপিটুনি, নারী শিশু ও সাংবাদিক নির্যাতনসহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের মতো ঘটনাগুলো প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কেননা এসব বিষয় সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।