ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ওয়াসার ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

ওয়াসার ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
×
×

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৩৪ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৩৮

দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় পাইপলাইন সংযোগ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ব্যর্থ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে এক পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময়ক্ষেপণ গ্রহণযোগ্য নয়। চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। পাশাপাশি পূর্বাচল এলাকায় পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের নির্দেশ দেন।

ওয়াসা বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মীর শাহে আলম বলেন, মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে বোর্ডের অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপে জনসেবামূলক কার্যক্রমের গতি কমছে। এ পরিস্থিতিতে আইন সংশোধন করে দেশের সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রমের ধীরগতিতে অসন্তোষ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা ও সরবরাহ উভয়ই ৩১৪ কোটি লিটার। জনসংখ্যা ও বাসাবাড়ির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে পানির চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু গত সাত মাসে ওয়াসার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন বা প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। পানির সংকট তৈরি হলে এর দায় সরকারের ওপরই বর্তায়। তাই নগরবাসীর পানির চাহিদা পূরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং ২৬ শতাংশ উপরিভাগের উৎস থেকে আসে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। এ জন্য উপরিভাগের পানিনির্ভর প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন।

ওয়াসার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেবার মান বজায় রেখে নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। এতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মিটার রিডিং ও বিলিং কার্যক্রমে অটোমেশন জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি।

২০৫০ সালের পানির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা ওয়াসার আধুনিকায়নে পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতেও বলেন প্রতিমন্ত্রী।

শহরের অবৈধ ও চোরাই পানির সংযোগ চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বলেন। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা ব্যাহত করা যাবে না বলে সিবিএ ও কর্মচারী সংগঠনগুলোর নেতাদের সতর্ক করেন তিনি।

পানির অপচয় রোধে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রাশ করা বা শেভ করার সময় অপ্রয়োজনে পানির কল খোলা রাখা যাবে না। পানি ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, দুই মাস পর তিনি আবারও ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন। এর মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চান তিনি, যাতে নগরবাসীর পানির সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি, ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন ও সিবিএর নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন

×