শ্রমিক লীগ ও শ্রমিক দলের দুই নেতাকে গুলি করে হত্যা
সিরাজদীখানে শিশুকে কুপিয়ে হত্যা, চিকিৎসাধীন বাবারও মৃত্যু
আবদুস সালাম , রিপন হোসেন
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৩৮ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৫৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাবনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ শ্রমিক লীগ ও শ্রমিক দলের দুই নেতাকে একসঙ্গে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার আতাইকুলা থানা এলাকার পুষ্পপাড়া হাটে এ ঘটনা ঘটে। এদিন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান, রাজশাহীর পবা ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আলাদা হত্যাকাণ্ডে শিশু, বৃদ্ধসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
পাবনায় নিহত দুজন হলেন– সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আবদুস সালাম (৫৫) ও তাঁর ভাগনে শ্রমিক দলের আতাইকুলা ইউনিয়নের সভাপতি রিপন হোসেন (৩৭)। সালাম সদর উপজেলার ধর্মগ্রামের মৃত আরজ আলী ব্যাপারীর ছেলে এবং পুষ্পপাড়া গরুর হাটের ইজারাদার ছিলেন। রিপন একই গ্রামের ওমেদ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সালাম ও রিপন পাবনা সদর উপজেলার পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদারের কার্যালয়ে বসেছিলেন। এ সময় সাত থেকে আট সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সেখানে ঢুকে সালাম ও রিপনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
পাবনা সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব রেহানুল ইসলাম বুলাল সমকালকে বলেন, রিপন শ্রমিক দলের আতাইকুলা ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। আর নিহত সালাম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
আরেকটি সূত্র জানায়, সালাম ও রিপন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি করলেও তারা হাটটির ইজারাদার হিসেবে অংশীদার ছিলেন।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
সিরাজদীখানে শিশুকে কুপিয়ে হত্যা, চিকিৎসাধীন বাবারও মৃত্যু
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পাঁচ বছরের শিশুকন্যা তোয়াবা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত তার বাবা গোলাপ হোসেন (২৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণদী গ্রামের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত গোলাপ উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী সোহরাব হোসেন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার বিকেলে রামকৃষ্ণদী এলাকায় একটি ইটভাটায় কর্মরত বাবা জয়নাল মিয়ার সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফিরছিল গোলাপ ও তাঁর মেয়ে। পথে কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা গোলাপকে কুপিয়ে জখম করে এবং শিশু তোয়াবাকে হত্যা করে পাশের পরিত্যক্ত জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে গতকাল সকালে ওই জমি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে, হামলার পর গুরুতর আহত গোলাপকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং পরে আবদুল্লাহপুর স্বদেশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল দুপুরে পুনরায় ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবার জানায়, প্রতিবেশী সোহরাবদের সঙ্গে তাদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছে। নিহত গোলাপ মৃত্যুর আগে জানিয়েছেন, সোহরাবের পাঠানো লোকজনই তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল।
সিরাজদীখান থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পবায় নিজ বাড়ির ছাদে কৃষক খুন
রাজশাহীর পবায় নিজ বাড়ির ছাদে আবুল কালাম আজাদ (৪৫) নামে এক কৃষককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার মধুসূদনপুর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সকালে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন জানান, আবুল কালাম আজাদের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো ছুরির আঘাত দেখা গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ওসি বলেন, রাতে বাড়িতে শুধু নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ছিলেন। ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারছেন না। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
সুন্দরগঞ্জ জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় নারীসহ ১৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল ফজরের নামাজের পর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সীচা ছাতিনামারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মকবুল হোসেন (৭০) ওই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত দুই মাস ধরে মকবুল হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশী মো. শাহাবুদ্দিনের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গতকাল সকালে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শাহাবুদ্দিনের লোকজন লাঠি ও দেশি অস্ত্র দিয়ে মকবুল হোসেনসহ তাঁর লোকজনকে মারধর করে। এ সময় ঘটনাস্থলেই মকবুল হোসেনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি সেলিম রেজা বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
(তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধি)
- বিষয় :
- হত্যা