ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

অ্যাফিডের পর্যবেক্ষণ

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে ভোট সুশৃঙ্খল হলেও প্রচারণা ছিল উদ্বেগজনক

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে ভোট সুশৃঙ্খল হলেও প্রচারণা ছিল উদ্বেগজনক
×
×

ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৩৮ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৪৮

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সাধারণভাবে সুশৃঙ্খল ছিল। তবে নির্বাচনের দিন প্রচারণামূলক কর্মকান্ড ছিল উদ্বেগজনক। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর জোট অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (অ্যাফিড) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন পর্যবেক্ষণ ফলাফল প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডেইলি স্টার সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই পর্যবেক্ষণ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

পর্যবেক্ষণ ফলাফল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন লাইট অ্যাফিডের সদস্য সচিব এবং লাইট হাউজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হারুন অর রশিদ। বক্তব্য রাখেন ডেমক্রেসিওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন তালেয়া রহমান।

অ্যাফিডের পর্যবেক্ষণ ফলাফলে বলা হয়, অ্যাফিড ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সাধারণভাবে সুশৃঙ্খল ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ভোটারদের সুশৃঙ্খল লাইন ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে। এ ছাড়া কেন্দ্রগুলোর ভেতরে মারামারি, ভয়ভীতি দেখানো বা জোর খাটানোর মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে সকালের দিকে একজন প্রার্থীকে ভোটকেন্দ্রের চারপাশে দলীয় প্রতীক বিতরণ করতে দেখা যায়, যা পরবতীতে ময়লা হিসেবে মাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। কেন্দ্রগুলোর কাছাকাছি নির্বাচনী প্রচারণামূলক সামগ্রীও দেখা গেছে, যা নির্বাচনের দিনে প্রচারণার নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তালেয়া রহমান বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটা ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য উৎসাহ ব্যাঞ্জক। ভবিষ্যতেও সব নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে হয় এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

হারুন অর রশিদ বলেন, সাধারণভাবে সুশৃঙ্খল ভোটগ্রহণ একটি ইতিবাচক দিক। তবে নির্বাচনের দিন প্রচারণার নিয়মগুলো সব প্রার্থীরই মেনে চলা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে এই নিয়মগুলো সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করা দরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন এই বিষয়গুলো নির্বাচনী আইনের আলোকে খতিয়ে দেখা এবং তাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানানো।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনের দিন অ্যাফিড ৫২ জন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে আসা পর্যবেক্ষকদের ১২৬টি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই প্রাথমিক বিবৃতিটি তৈরি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনজন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক নির্বাচনের আগের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। এই মিশনে মোবাইল বা ভ্রাম্যমাণ পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে পর্যবেক্ষকেরা নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে অল্প সময়ের জন্য গিয়েছিলেন। তাই এই তথ্যগুলো কেবল সেই নির্দিষ্ট স্থান, বুথ এবং সময়ের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা আসলে সরাসরি দেখা গেছে।

এতে বলা হয়, শারীরিক প্রতিবন্ধী বা চলাফেরায় সমস্যা থাকা মানুষের জন্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রবেশযোগ্যতার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। যদিও বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র নিচতলায় স্থাপন করা হয়েছিল, তবুও পর্যবেক্ষণ করা কেন্দ্রগুলোর ২৪ শতাংশে অন্যের সহায়তা ছাড়া চলাফেরা করতে অক্ষম ভোটারদের প্রবেশের কোনো সুব্যবস্থা ছিল না। প্রবেশদ্বারে ছোট ছোট সিঁড়ি থাকার কারণেও অনেকের ঢুকতে সমস্যা হতে পারে। তাই শুধু নিচতলায় কেন্দ্র করলেই সবার জন্য যাতায়াত সহজ হয় না। কেন্দ্রগুলোতে সিঁড়িমুক্ত এমন পথ থাকা উচিত, যাতে সব ভোটার স্বাধীনভাবে ও মর্যাদার সাথে ভেতরে যাতায্যত করতে পারেন। ভোটগ্রহণ শুরুর প্রক্রিয়াটি সাধারণভাবে সুশৃঙ্খল ছিল এবং নির্বাচন কর্মকর্তারা বেশ ভালো প্রস্তুতি দেখিয়েছিলেন। ৯৮ শতাংশ কেন্দ্রে গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য ভোটকক্ষগুলো সঠিকভাবে সাজানো হয়েছিল। তবে, কিছু কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা এমনভাবে বসানো হয়েছিল যা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়, কারণ বুথের ভেতরে ভোটাররা যখন ব্যালটে সিল মারছিলেন, তখন তা ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছিল। এটি ভোটের গোপনীয়তা নষ্ট করতে পারে।

ফলাফল প্রতিবেদনে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়। এগুলো হচ্ছে— নির্বাচনের দিন সকালে দলীয় প্রতীক বিতরণসহ অন্যান্য প্রচারণামূলক কর্মকান্ড আরপিও-এর ৭৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তদন্ত করা উচিত। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এই নিয়ম সব প্রার্থী ও দলের জন্য সমানভাবে কার্যকর হতে হবে। নির্দিষ্ট এলাকা, সময়, কর্মকান্ড এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিসহ নির্দিষ্ট অভিযোগগুলো সঠিক মাধ্যমে জমা দেওয়া উচিত। প্রাসঙ্গিক সব রেকর্ড বা তথ্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা দরকার এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এছাড়া অভিযোগের সময়োপযোগী ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তি এবং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দিতে এবং আরও সহিংসতা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

আরও পড়ুন

×