পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ডের প্রজ্ঞাপন কাল, কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:০৭ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:০৮
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে আন্দোলন পরিহার করে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এর আগে শুক্রবার পোশাকশ্রমিক নেতাদের সঙ্গে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা করে সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল নতুন মজুরি বোর্ড গঠন। সরকার সেই দাবি মেনে নিয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে বোর্ডে তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদের নাম জমা দিয়েছেন। রোববারের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পর মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। তবে এবার শ্রমিকদের স্বার্থে তিন বছরের ব্যবধানে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনে সম্মত হয়েছেন মালিকেরা। তারা নিজেদের প্রতিনিধিদের নামও চূড়ান্ত করেছেন।
বকেয়া বেতন পরিশোধের নির্দেশ
যেসব কারখানায় শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য পাওনা বকেয়া রয়েছে, সেসব কারখানায় দ্রুত তা পরিশোধের জন্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, পাওনা আদায়ের নামে ভাঙচুর বা কারখানা বন্ধ রাখা তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে কিংবা অসাধু কোনো মহলের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বহিরাগতদের ইন্ধনের অভিযোগ
মিরপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সাম্প্রতিক সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী দাবি করেন, এসব বিশৃঙ্খলায় সাধারণ পোশাকশ্রমিকেরা জড়িত নন। বহিরাগত কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এসব কর্মকাণ্ডে ইন্ধন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকার সংঘাতের পথ এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার গণতান্ত্রিক সমাধান চায়। তবে শিল্প খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সহসভাপতি মিজানুর রহমান ও রেজওয়ান সেলিমসহ দুই সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।