ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

এইচএসসির ফল

খাতা মূল্যায়নের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

খাতা মূল্যায়নের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী
×
×

সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

সমকাল প্রতিবেদক ‎

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৫৩ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:২০

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ত্রুটি বা অসংগতি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তিনি। তবে পুনর্নিরীক্ষণের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মূল্যায়নে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও জানান।

শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেক কমে আসার কারণ এবং আগের বছরগুলোর ফলাফল তদন্ত করা হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ফলাফলে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা জানতে শিক্ষার্থীদের পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘গতবার পুনর্নিরীক্ষণে অনেক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এবার কী হয়, সেটি আমরা দেখতে চাই। শিক্ষকদের বা পরীক্ষকদের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। আপাতত বলতে পারি, ফল নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তবে ফলাফলে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি। পুনর্নিরীক্ষণের পর বিষয়টি বোঝা যাবে।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এর আগে এসএসসি পরীক্ষার প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছেন প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন।

এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের বিষয়টিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এক্সামিনেশন সিস্টেমকে আবার আমরা রি-এক্সামিন করব।’ উত্তরপত্র মূল্যায়নে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাঁদের মূল্যায়নে বেশি গরমিল পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যেভাবে লিখেছে, ঠিক সেভাবেই যেন তাদের মূল্যায়ন করা হয়। ভুল মূল্যায়নের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন হতাশ বা অনুৎসাহিত না হয়। সবার জন্য স্বচ্ছ ও নির্ভুল ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে এবারের ফল বিপর্যয়কে কোনোভাবেই সন্তোষজনক মনে করছেন না শিক্ষামন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘ফলাফলের এমন পতন বা বিপর্যয় কখনোই প্রশংসনীয় হতে পারে না।’

পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের শিখন-অর্জনের ঘাটতি, পাঠদান পদ্ধতি, অভিভাবকদের ভূমিকা ও শিক্ষার পরিবেশের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের দায় শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর চাপালে হবে না। শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত ও কার্যকর পাঠদান এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকটও কাটিয়ে উঠতে হবে।

দেশে শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘদিনের জট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিগত দিনের শিক্ষকসংকটও রয়েছে, আমাদের নিয়োগ দেওয়ার বাধা রয়েছে। অর্থাৎ এত শিক্ষক একসঙ্গে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না, পিএসসি দিতে পারছে না। গত ১৭ বছরের ব্যাকলগ রয়েছে। প্রাথমিক বলেন, মাধ্যমিকে বলেন, উচ্চমাধ্যমিকে বলেন বা ডিগ্রি লেভেলের কলেজ, সব জায়গায় আমাদের শিক্ষকের সংকট রয়েছে।’

শিক্ষকসংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংকটগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে বিদ্যমান ব্যবস্থার কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শনিবার বেলা ১১টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল একযোগে প্রকাশ করা হয়। এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশীয় পয়েন্ট।
 

আরও পড়ুন

×