নভেম্বরে দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আভাস, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে শৈত্যপ্রবাহ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ২২:২১
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। এর সম্ভাব্য গতিপথ ভারতের অন্ধ্র উপকূল। এর মধ্যেই চলতি নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে আরও একাধিক লঘুচাপ সৃষ্টি এবং এর মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাসও রয়েছে।
আজ রোববার আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী, চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ। এর মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে নভেম্বরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীত অনুভূত হতে পারে। কোথাও কোথাও এবং নদী অববাহিকায় ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এ মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকতে পারে।
নভেম্বর থেকে জানুয়ারি—এই তিন মাসে দেশে আট থেকে ১০টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে দুটি থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। আগামী তিন মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে পাঁচটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ অথবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’তে পরিণত হয়েছে। রোববার দুপুরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর এটি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে তা ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেতের পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘণ্টায় প্রায় ২৩ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আজ দুপুর ১২টার দিকে গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’তে পরিণত হয়। আগামীকাল সোমবার সকাল নাগাদ এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পরদিন মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার ভোরের মধ্যে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঝড়টি। সম্ভাব্য আঘাতস্থল নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা।
- বিষয় :
- ঘূর্ণিঝড়
- শৈত্যপ্রবাহ
- আবহাওয়া অধিদপ্তর