ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীতে পঞ্চম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা

রাজধানীতে পঞ্চম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা
×
×

পাহাড়ি সবজি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১৩:২৭ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১৩:৪৫

রাজধানীতে আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী পঞ্চম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা-২০২৬। উন্নয়ন সংগঠন নাগরিক উদ্যোগ ও আদিবাসী সুহৃদদের যৌথ আয়োজনে মিরপুর-১৩-এর পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মেলার স্টল বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়ার পর উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলের পাশাপাশি সমতলের মান্দি, মণিপুরি, সাঁওতাল ও রাখাইন সম্প্রদায়ের অনেক উদ্যোক্তা ইতোমধ্যে স্টল বুকিং দিয়েছেন। বরাদ্দ করা স্টলের মধ্যে আদিবাসী নারী উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য রয়েছে।

মেলায় আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালিতে তৈরি বিভিন্ন খাবার পাওয়া যাবে। তেল ও মসলার ব্যবহার ছাড়াই তৈরি এসব খাবারের মধ্যে থাকছে পাহাড়ের জনপ্রিয় ব্যাম্বু শুট, কলাপাতায় রান্না করা বিভিন্ন ধরনের হেবাং, জুমের সবজি ও পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার পাজন। এ ছাড়া সমতলের মণিপুরি, গারো ও রাখাইন উদ্যোক্তারা তাঁদের সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় খাবার নিয়ে অংশ নেবেন।

রাখাইন উদ্যোক্তারা কালো ও সাদা বিন্নি চালের বিভিন্ন ধরনের পিঠা নিয়ে আসবেন। মেলায় পাওয়া যাবে মণিপুরি সম্প্রদায়ের ডাল দিয়ে তৈরি বিশেষ খাবার উতি এবং বিন্নি চাল ও দুধ দিয়ে তৈরি ক্ষীর সাঙ্গোম। পাশাপাশি থাকবে বিভিন্ন ধরনের মুন্ডি। টাটকা ফল দিয়ে তৈরি ঝাল খাবার লাকসোও মেলার অন্যতম আকর্ষণ হবে।

খাবারের পাশাপাশি মেলায় থাকবে বিভিন্ন জাতের বিন্নি চাল, পাহাড়ি মধু, জুমের বিষমুক্ত শাকসবজি, পাহাড়ি কলা, মধুপুরের আনারস, পেঁপেসহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল ও কৃষিপণ্য। এ ছাড়া শুঁটকি এবং কাপ্তাই হ্রদের মাছও পাওয়া যাবে।

আয়োজক সংগঠন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জানান, শহুরে মানুষকে আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় জুমচাষ, কৃষিপণ্য ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি আদিবাসী উদ্যোক্তারা যাতে তাঁদের পণ্যের সঙ্গে আরও বেশি ভোক্তার পরিচয় ঘটাতে পারেন, সে সুযোগ তৈরি করাও মেলার অন্যতম লক্ষ্য। এ বছরসহ টানা পাঁচ বছর ধরে এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজধানীবাসীর মধ্যে মেলাটি বেশ সাড়া ফেলেছে।

আয়োজকদের অন্যতম মেইনথিন প্রমীলা বলেন, দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস। আদিবাসীদের খাবারের সঙ্গে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের মেলবন্ধন ঘটানোর পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘদিনের চর্চায় থাকা বিষমুক্ত কৃষিপণ্য সম্পর্কে নগরবাসীকে পরিচিত করানোও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। ৬ নভেম্বর সকাল ১০টায় মেলার উদ্বোধন করবেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান।

মেলার দুই সন্ধ্যায় থাকবে আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশ আইডল মং, পাহাড়ের সংগীতশিল্পী বর্ষা চাকমা, বুলু তঞ্চঙ্গ্যা ও গারো সম্প্রদায়ের উদীয়মান শিল্পী মার্কুস চিসিম। পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনা থাকবে।

আয়োজকরা জানান, মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ স্টেশন থেকে রিকশায় প্রায় পাঁচ মিনিটে মেলার স্থানে পৌঁছানো যাবে। পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্সের পাশেই রয়েছে স্কলাসটিকা ও এসওএস শিশুপল্লী। বিপরীতে বিআরটিএ কার্যালয়।

আরও পড়ুন

×