ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

সালমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে ৩ মামলা করবে দুদক

জনতা ব্যাংকের ১১২১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে 

সালমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে ৩ মামলা করবে দুদক
×
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ২২:০৫

আমদানি-রপ্তানির নামে ঋণ নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকটির ঢাকার স্থানীয় শাখা থেকে এসব ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাগুলো করা হবে। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করবেন। সোমবার দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

দুদক সূত্র জানায়, নবসৃষ্ট স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের নামে ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হবে। আরবান ফ্যাশনসের নামে ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সালমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলা এবং মিডওয়েস্ট গার্মেন্টসের নামে ৫৬৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সালমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে তৃতীয় মামলা করা হবে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে দুদক জানায়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে এসব ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের ব্যবস্থা করেন। স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস নামে কথিত নবসৃষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুবিধাসহ ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ দেখানো হয়। অথচ আমদানি-রপ্তানির ব্যবসার কথা উল্লেখ করা প্রতিষ্ঠানটির আগে কোনো ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছিল না। জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(ক) ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর (সংশোধিত ২০১৫) ৪(২) ও ৪(৩) ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান, পরিচালক ইকবাল আহমেদ, গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী ওরফে ও কে চৌধুরী, পরিচালক এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক, রীম এইচ ও শামসুদ্দোহা।

এ ছাড়া আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল উদ্দিন ও পরিচালক সাহিদা রহমান, ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীরের নাম রয়েছে। সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং সোহেল এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানও আসামি হচ্ছেন।

জনতা ব্যাংকের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেন, স্থানীয় শাখার সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. শহিদুল হক, উপমহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান ও মো. মমতাজুল ইসলাম, সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্যবস্থাপক মো. সালেহ আহম্মেদ এবং এলসি বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামও মামলার আসামি হচ্ছেন।

সালমান এফ রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ছিলেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল অভিযোগটি অনুসন্ধান করে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেন এবং উপসহকারী পরিচালক এলমান আহমেদ অনি ও রুমান উদ্দিন।

দুদক জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ১০টি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা হয়েছে আরও তিনটি মামলা। নতুন তিনটি মামলা হলে সালমান এফ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬টিতে।

আরও পড়ুন

×